সূর্য ওঠার অনেক আগেই চোখ মেলে তারা। চারপাশে ইটভাটার ধোঁয়া, কাদামাখা মাটি আর অস্থায়ী টালির ঘরে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাসই তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। ঘুম থেকে উঠে তাদের গন্তব্য স্কুল বা টিউশন নয়। অধিকাংশ শিশুরই পথ যায় ঘরের সামনের ইটভাটায়। যেখানে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাদা, ইট আর ধুলোর সঙ্গে লড়াই করেন তাদের বাবা-মা। সেই ধুলো কাদা মাখা ছবি দেখেই বড় হয় শিশু-কিশোররা।
advertisement
ইটভাটা শিল্পে যুক্ত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ বছরের পর বছর একই মালিকের অধীনে কাজ করতে বাধ্য। আগাম নেওয়া ঋণের বোঝা তাদের বেঁধে রেখেছে। এই ঋণনির্ভর শ্রমব্যবস্থা কার্যত আধুনিক দাসত্বের রূপ নিয়েছে। এর সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শ্রমিক পরিবারের শিশুরা।
ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ভাটায় কাজ করার ফলে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। মাঝপথে যখন তারা গ্রামে ফেরে, তখন শিক্ষাবর্ষ অনেকটাই এগিয়ে যায়। নতুন বই, খাতা বা শিক্ষাসামগ্রী না পাওয়ায় অনেকেই আর পড়াশোনায় ফিরতে পারে না। ধীরে ধীরে শিক্ষাজীবন থমকে যায়, হারিয়ে যায় ভবিষ্যতের পথ।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
দারিদ্রতার জাঁতাকলে নিষ্পেষিত এই শিশুদের জীবনের শুরুটাই সংগ্রামে মোড়া। দুই বেলা দু’মুঠো খাবারের সন্ধানে নিয়তি তাদের টেনে নিয়ে যায় হাড়ভাঙা শ্রমের ইটভাটায়। যে বয়সে থাকার কথা বাবা-মায়ের আদরে, পড়ার টেবিলে বা খেলার মাঠে, সেই বয়সেই তাদের ঠিকানা ইটভাটা। শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধুলোর মধ্যে কাজ করে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে শিশুরা। শ্বাসকষ্ট, অপুষ্টি ও নানা রোগ যেন নিত্যসঙ্গী। তাদের ‘স্বপ্নিল ভবিষ্যৎ’ দারিদ্র্যের বেড়াজালে বন্দি হয়ে ইটভাটার ধোঁয়ার আড়ালেই চাপা পড়ে থাকছে।





