বিজ্ঞপ্তি জারি করে ছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের জানিয়েও দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। শহরের আর পাঁচটা নামী স্কুলগুলির অন্যতম রামপুরহাট গালর্স হাইস্কুল। বর্তমানে এই স্কুলে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি মিলিয়ে প্রায় ৩৮০০ এর কাছাকাছি ছাত্রী রয়েছে। তবে পড়ুয়ার তুলনায় শিক্ষিকার সংখ্যা কম। যেখানে প্রধান শিক্ষিকা সহ ৫০-এর অধিক শিক্ষিকার প্রয়োজন, সেখানে রয়েছেন ৩৯ জন স্থায়ী শিক্ষিকা, চারজন প্যারা টিচার। প্রধান শিক্ষিকা নেই,তার পরিবর্তে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা। আগে এই স্কুলের ছাত্রীরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যের মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। কিন্তু কয়েকবছর ধরে তা আর হচ্ছে না।
advertisement
আরও পড়ুন: মালদহ, মুর্শিদাবাদের ভাঙ্গন রুখতে রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু, অর্থ দেবে কে? কেন্দ্রের সাহায্য?
এখন ছাত্রীদের অনেকেরই ক্লাস করতে অনীহা। অভিযোগ, ছাত্রীদের অনেকে ইউনিফর্ম পরে বাড়ি থেকে বেরোলেও স্কুলে না গিয়ে যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ স্কুলে এলেও ক্লাস করছে না। সামনে থাকা টাউন হলের টয়লেটে ঢুকে ইউনিফর্ম বদলে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এর আগে কয়েকবার সেইসব জায়গায় হানা দিয়ে ছাত্রীদের ধরে স্কুলে নিয়ে এসেছেন টিচার ইনচার্জ। অভিভাবকদের সচেতন করেছেন।তারপরেও অনেক ছাত্রী নিজেদের বদলায়নি। মূলত একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের দিকেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নোটিস পাঠিয়ে জানিয়েছে, সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে সকল ছাত্রীকে স্কুলের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে, সেখানে দুই থেকে দশ মিনিট পর্যন্ত তা বেশি হতে পারে। তবে ১০টা বেজে ৫০ মিনিটের পরে গেট বন্ধ হয়ে যাবে। বিকেলে সাড়ে চারটের ফের গেট খুলবে।
অভিভাবকদের কাছে স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুরোধ, তাঁরা যেন ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন এবং ছুটির পর বাড়ি নিয়ে যান। টিচার ইনচার্জ মল্লিকা হালদার বলেন, “কিছু পড়ুয়া স্কুলে আসেই না। ইউনিফর্ম পরে ঘুরে বেড়ায়। অথচ অভিভাবকরা ভাবছেন, তাঁদের মেয়েরা স্কুল করছে। আবার অনেকে দেরিতে স্কুল আসছে। স্কুলের যে চিরাচরিত রীতি সেটা হারিয়ে যাচ্ছিল। ছাত্রীরা যাতে নির্দিষ্ট সময়ে স্কুল আসে এবং যখন খুশি বেরিয়ে যেতে না পারে সেজন্যই এই পদক্ষেপ।”
আরও পড়ুন: প্রবল বৃষ্টিতে অঘটন! ডুয়ার্সে হড়পা বানের তাণ্ডব, পাহাড়ি নদীতে তলিয়ে গেল আস্ত ট্রাক্টর!
ছাত্রীদের অবশ্য বক্তব্য, সকালে তাদের টিউশন থাকায় স্কুলে আসতে দেরি হচ্ছে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কেমিস্ট্রি, বায়োলজি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক নেই। যদিও মল্লিকাদেবী বলেন, শিক্ষিকার সংখ্যা কম ঠিকই। কিন্তু এর মধ্যেই মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষিকাদের দিয়ে সমস্ত ক্লাস করানো হচ্ছে। আবার অনেক ছাত্রী জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ যথেষ্ট ভাল।





