আর এই কারণেই পুণ্যার্থী, পর্যটকদের এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে দ্বারকায় আরতির আকর্ষণ ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে এসেছিল। অবশেষে তারাপীঠে দ্বারকা নদের পাড়ে নিত্য আরতি বন্ধ হয়ে গেল। তারাপীঠ মন্দিরের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য রবি চট্টোপাধ্যায় জানান, “দ্বারকা নদে জল নেই বললেই চলে। পাশাপাশি অনেকেই প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নোংরা আবর্জনা ফেলে যাচ্ছে দ্বারকা নদে ফলে দূষণ বেড়েছে।”
advertisement
তিনি আরও জানান, “বিকেলের পর থেকে ওখানে কিছু যুবক-যুবতীর আচরণও আপত্তিজনক। মন্দিরের তরফ থেকে দু’জন করে নিরাপত্তারক্ষী দিয়েও সেই সমস্যা মেটানো যায়নি। ফলে কার্যত আধ্যাত্মিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আরতি দেখতে পর্যটকেরা আসছিলেন না। অথচ এই আরতির জন্য মাসে আনুমানিক প্রায় দু’লক্ষ টাকা করে খরচ হচ্ছিল। তাই আমরা আরতি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।”
আরও পড়ুনঃ প্রেসার কুকারে ৫/৭ মিনিটেই বানিয়ে নিন মুচমুচে মুড়ি, মাসের পর মাস থাকবে খাস্তা, জানুন বানানোর পদ্ধতি
তারাপীঠে মন্দির ছাড়া ঘুরতে যাওয়ার তেমন জায়গা না থাকায় পুণ্যার্থীদের আক্ষেপ ছিল বহুদিন থেকে। সেই কারণে প্রায় পাঁচবছর আগে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের পক্ষ থেকে আনুমানিক প্রায় আট কোটি টাকা খরচে দ্বারকার পশ্চিমপাড়ে ৫০০ মিটার অংশ সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। নদীর পাড় উঁচু করে ঢালাই দিয়ে বাঁধিয়ে পার্ক গড়ে তোলা হয়। টাইলস বসানো রাস্তা, নিরিবিলি বসার জায়গা ও আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
এরপর ২০২৪ সালে কৌশিকী অমাবস্যার দিন থেকে দ্বারকা নদের পাড়ে আরতি শুরু হয়। এতে পর্যটকদের কাছে তারাপীঠের আকর্ষণ বেড়ে যায়। বারাণসীর দশাশ্বমেধ ঘাটে বছরের ৩৬৫ দিন গঙ্গা আরতি হয়। সেই আদলেই দ্বারকার পাড়ে আরতি শুরু হওয়ায় ভক্তরা খুশি ছিলেন। কিন্তু ক্রমশ দ্বারকা নদের জল কমে আসতে থাকে। তার উপর দূষণও বাড়ছে। এই কারণেই সন্ধ্যা আরতি বন্ধ করতে বাধ্য হন মন্দির কমিটি।





