সোনারপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রীতিকণার হাতের কাজ এখন বিদেশেও পাড়ি দেয়। বিনা পারিশ্রমিকেই মহিলাদের সেলাইয়ের কাজ শেখান তিনি। কাঁথা সেন্টারের নাম এখন লোকের মুখে মুখে ফেরে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই বিদেশেও চর্চিত এই প্রীতিকণার কাঁথা সেন্টারে তৈরি নকশিকাঁথার জিনিস। বিদেশে গিয়েও কাজ শিখিয়ে এসেছেন প্রীতিকণা। যদিও তাঁর সারাজীবনের লড়াই ততটাও সহজ ছিল না।প্রীতিকণার সংগ্রামের কাহিনি সারাজীবনের কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন সোনারপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রীতিকনা গোস্বামী। বাবার মৃত্যুতে মাত্র ১০ বছর বয়সেই অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন তিনি। মা এবং পাঁচ বোনের সংসারে নেমে আসে চরম দারিদ্র্য। জ্যেঠু তাঁকে নিয়ে চলে যান তাঁর বাড়িতে। সেখানেই মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা। এর সঙ্গে সঙ্গেই ছোটবেলা থেকে সেলাইয়ের কাজেও তাঁর হাতেখড়ি হয়।
advertisement
বান্ধবী রমা দাসের সেলাইয়ের কাজ তাঁকে উৎসাহ দিয়েছিল। রমা সেলাইয়ের কাজের অর্ডার পেতেন। সেই সূত্র ধরেই পীতাম্বরি নামে একটি সংস্থা প্রীতিকণাকেও সেলাইয়ের কাজের অর্ডার দেয়। এরমধ্যেই ১৯৭৭ সালে বিয়ে হয়ে যায় প্রীতিকণার। বিয়ের পরেও পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। সিটি কলেজে ভর্তি হন। তবে সন্তানসম্ভবা হয়ে যাওয়ায় আর পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। যদিও সেলাইয়ের কাজ থেমে থাকেনি।১৯৯০ সালে ওয়েস্টবেঙ্গল ক্রাফট কাউন্সিল থেকে নকশিকাঁথার কাজের অর্ডার আসে। সেই থেকেই শুরু। কাজ এতটাই ভালহয় পরের বছরই নকশিকাঁথার কাজ শেখানোর একটি বিভাগ খোলা হয় ওই কাউন্সিলে। যার দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রীতিকণাকে।
২০০১ সালে তিনি তাঁর কাজের জন্য রাষ্ট্রপতি আবদুল কালাম আজাদের কাছ থেকে জাতীয় পুরষ্কার পান। এর আগে তাঁর কাকা পণ্ডিত নিখিল ঘোষ সঙ্গীত বিভাগে পদ্মভূষণ পেয়েছিলেন। নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পদ্মশ্রী প্রীতিকণা গোস্বামী বলেন, “আমি যে এতকাল কষ্ট করেছি, সেই কষ্টেরই ফল পেলাম। ভগবান আমায় যেমন আশীর্বাদ করলেন। আগামীদিনেও যেন এই কাজ আমি আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। আমার যতদিন ক্ষমতায় কুলবে ততদিন করে যাব এই কাজ।
সুমন সাহা





