আখ চাষের জন্য প্রথমে জমি ভাল করে চাষ দিতে হয়। এরপর মাটিতে জৈব সার ও রাসায়নিক সার মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয়। সাধারণত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে আখের কান্ড বা সেট রোপণ করা হয়। প্রতিটি কান্ডে ২-৩টি গাঁট থাকতে হয়। সেগুলো সারিবদ্ধভাবে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়। কিছুদিন পর চারা বের হয়। নিয়মিত সেচ দিতে হয়। আগাছা পরিষ্কার করা জরুরি। রোগ-পোকা দমনের জন্য সময়মত ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। এই চাষে প্রচুর পরিচর্যার প্রয়োজন।
advertisement
খরচের দিক থেকে আখ চাষে একটু বেশি। এক বিঘা জমিতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে রয়েছে বীজ, সার, শ্রমিক ও সেচের খরচ। প্রায় ১০ থেকে ১২ মাসে আখ পরিপক্ক হয়। এরপর কেটে তোলা হয় ফসল। শ্রমিক দিয়ে আখ কাটা হয়। তারপর সেগুলো বাজারে বা কারখানায় বিক্রি করা হয়। এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কুইন্টাল পর্যন্ত আখ পাওয়া যায়। বাজারদর ভাল থাকলে আয়ও বাড়ে।
আরও পড়ুন: বিরাট নজির গড়লেন এগরার এই শিক্ষক, কুর্নিশ জানালেন সকলে, জানলে গর্বে বুক ফুলবে আপনারও
মহাবিশ্রা গ্রামের এক আখ চাষি পূর্ণেন্দু বিকাশ সাউ বলেন, “আমি গত ২৫ বছর ধরে এই আখ চাষ করে আসছি। এবছর আমি এক বিঘা আখ চাষ করেছি। ধান-বাদাম চাষের পাশাপাশি এই আখ চাষ লাভজনক বলেই চাষ করি। লাভ বেশ ভালই হয়। তবে এই চাষে প্রচুর পরিচর্যার প্রয়োজন। শ্রমিক খরচ বেশি।” তাঁর কথায়, সব খরচ বাদ দিয়েও এক বিঘায় ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। সব মিলিয়ে, এই এলাকায় আখ চাষ এখন কৃষকদের জন্য লাভজনক ফসল হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে এই চাষ আরও বাড়বে বলেই আশা করছেন এলাকার কৃষকরা।





