সুন্দরবন মানেই বিপদ। ওলিতে গলিতে বিপদ লুকিয়ে রয়েছে। কিন্তু বিপদ জেনেও প্রতিদিন সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে জীবন জীবিকার টানে এলাকাবাসীরা জঙ্গলে যায়। মূলত সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকার মানুষদের জীবন জীবিকার অন্যতম মাধ্যম হল জঙ্গল থেকে মধু সংগ্রহ করা এবং সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা। এভাবেই জীবন যুদ্ধে প্রতিদিন সাক্ষাৎ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালায় সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকার মানুষেরা।
advertisement
গত চার বছর আগে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন কুলতলি বিধানসভার দেউলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা লক্ষিন্দর সাফুই। মূলত সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ এবং মাছ ধরে চলে লক্ষিন্দরের জীবন। সংসারে অভাব অনটন কমানোর জন্য লক্ষিন্দরকে প্রতিটা দিনই বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। তেমনই চার বছর আগে সুন্দরবনের জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে শিকার হন তিনি। প্রাণের বেঁচে গেলেও বাঘের আক্রমণে গুরুতর জখম লক্ষিন্দর।
বেশ কয়েক মাস কলকাতায় চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল তাকে। কিছুটা সুস্থ হয়ে লখিন্দর বাড়িতে পৌঁছলে চলাফেরা শক্তি অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন। আর আগের মতো চলাফেলা করতে পারেন না। পরিবারের অভাব দূর করার জন্য সংসার চালানোর দায়িত্ব কাঁধে নেন লখিন্দরের স্ত্রী কমলা। পাঁচ জনের পরিবার তাদের। কমলা প্রতিদিন জমিতে দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালান। অবসর সময়ে বিড়ি বেঁধে সংসার চালাতে হয় লখিন্দর স্ত্রীর কমলাকে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এখনও পর্যন্ত লক্ষিন্দরের কাছে পৌঁছয়নি কোন সরকারি সাহায্য। সরকারি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি সার কেবলমাত্র। এখনও এক চিলতে কুঁড়েঘরে লক্ষিন্দরের হতদরিদ্র পরিবার বাস করে। আবাস যোজনার ঘর থেকেও বঞ্চিত লখিন্দর।
এ বিষয়ে আক্ষেপের সুরে লক্ষিন্দর জানান, ‘সেদিন বাঘের আক্রমণে মারা গেলেই ভাল হতো। তাহলে সরকারি ক্ষতিপূরণ আমার পরিবার পেতো। দীর্ঘ চার বছর ধরে কোন সরকারি সাহায্য আমরা পাইনি। আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়ার কথা কিন্তু সেই বাড়ি এখনও পর্যন্ত পাইনি আমরা। আমার স্ত্রী দিনমজুর করে এই সংসার চালাচ্ছে।’ সরকারি সাহায্যের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছে লক্ষিন্দরের পরিবার।





