রিপনের শুরুটা হয়েছিল একদম শূন্য থেকে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন হকার। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ছিল খুবই খারাপ । যাঁর জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলেও গ্র্যাজুয়েশন করা সম্ভব হয়নি। রিপনের ছোট থেকেই ইচ্ছা ছিল কম্পিউটার শেখার। তবে কম্পিউটার শেখার ইচ্ছা থাকলেও ছিল না পর্যাপ্ত অর্থ। তাই কম্পিউটার শেখার জন্য স্বল্প বেতনে বেয়ারার কাজে ঢোকেন একটা কম্পিউটার সেন্টারে।
advertisement
আরও পড়ুন: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মহৌষধ এই ফল, খেলে হাজার হাজার টাকার ওষুধের খরচ বাঁচবে! জানুন
পরবর্তীতে ওই কম্পিউটার সেন্টার বড় হলে ওখানেই নাইটগার্ডের কাজে লাগেন। তবে আলাদা করে নাইট গার্ডের কাজ শুরু করেন শুধুমাত্র ওই সময় আলাদা করে কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবেন বলে। এইভাবেই চলতে থাকে রিপনের কম্পিউটার শেখার প্রচেষ্টা। তবে স্বল্প বেতনে আর দিন চলছিল না রিপনের। তাই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কলকাতায় বইয়ের কারখানায় কাজে লাগেন। কয়েকদিন পর বাবার শরীর খারাপ হওয়ার কারণে আবার কাটোয়া শহরে ফিরে আসতে হয়। রিপন জানিয়েছেন, ফিরে আসার পর একটা ফ্লেক্সের দোকানে কাজ শুরু করেন। সেখানেই তিন বছর কাজ করে গ্রাফিক্সের প্রচুর কাজ শেখেন।
আরও পড়ুন: রোজ ১-২ টো চুষে খেতে হবে, তাহলেই কেল্লাফতে! এক নয় হাজার হাজার রোগের দফারফা করবে এই ‘মিষ্টি’
রিপনের দাদারা যেহুতু কলকাতায় গেঞ্জির কাজ করতেন। তাই রিপন ঠিক করেন এবার তিনি গেঞ্জির উপর গ্রাফিক্স ডিজাইন করে, নিজে ব্যবসা শুরু করবেন। তবে ব্যবসার প্রচারের জন্য তখন সেরকম ভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার কোনও প্রভাব ছিল না। তাই রিপন ঠিক করেন ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবসার প্রচার করবেন। তবে তিনি জানতে পারেন ওয়েবসাইট বানাতে লাগবে একটা মোটা অঙ্কের টাকা। সেই সময় সেই টাকা দেওয়ারও সামর্থ্য ছিলনা রিপনের। তাই নিজেই ইএমআই তে কম্পিউটার নিয়ে শিখে ফেলেন ওয়েবসাইট তৈরি করা। তারপর ওয়েবসাইট তৈরি করে নিজের ডিজাইন করা টি শার্টের প্রচার করতে থাকেন।
এইভাবেই ধীরে ধীরে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হয়ে ওঠে রিপন । বর্তমানে রিপনের ডিজাইন করা টি শার্ট পাড়ি দেয় দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও। এখন রিপনের কোম্পানিতে কাজ করেন অনেকে। মোটা বেতনে তাদের কাজে রেখেছে রিপন। তাহলে একবার ভেবে দেখুন একসময় যে কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছে, আজ সেই অন্যদের কাজে রেখেছে । বর্তমানে একজন ভাল ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছে সে। তাঁর কথায় কাউকে বসে থাকলে চলবে না। শুধুমাত্র লক্ষ্য ঠিক রেখে এগিয়ে চললেই আসবে সাফল্য।
বনোয়ারীলাল চৌধুরী
আরও খবর পড়তে ফলো করুন
https://whatsapp.com/channel/0029VaA776LIN9is56YiLj3F





