বনদফতরের তরফে স্পষ্টভাবে জানান হয়েছে, ঝাউবনের ভিতরে যেখানে-সেখানে আগুন জ্বালানো যাবে না। পিকনিক হোক বা আগুন পোহান—খোলা জায়গায় আগুন না লাগানোই সবচেয়ে নিরাপদ। জ্বলন্ত সিগারেট বা বিড়ির অবশিষ্টাংশ কোনওভাবেই বনভূমিতে ফেলা যাবে না। ছোট একটি অবশিষ্টাংশ থেকেও বড় আগুন লাগতে পারে। পিকনিক শেষে অবশ্যই দেখে নিতে হবে আগুন পুরোপুরি নিভে গেছে কি না। অনেক সময় অল্প আগুন থেকেই শুকনো পাতায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে পর্যটকদের।
advertisement
এছাড়াও প্লাস্টিক, কাগজ বা শুকনো পাতা পোড়াতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এইসব জিনিস খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে দেয়। বনদফতরের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের বর্জ্য পোড়ানোর কারণে বড়সড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কাচের বোতল বা ভাঙা কাচ ফেলে যাওয়াও বিপজ্জনক। সূর্যের তাপে কাচ লেন্সের মত কাজ করে শুকনো পাতায় আগুন ধরাতে পারে। শিশুদের দিকেও বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যেন আগুন বা কোনও দাহ্য বস্তু নিয়ে খেলাধুলা না করে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
কাঁথি বনাঞ্চলের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার অতুল প্রসাদ দে জানান, ‘পর্যটকদের সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। পিকনিকের আনন্দ যেন কোনওভাবেই বনের ক্ষতির কারণ না হয়। অসচেতনতার ফলেই আগুন লাগার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই প্রতিটি ঝাউবন এলাকায় বনদফতরের কর্মীরা নজরদারিতে রয়েছেন। পর্যটকদের আগেই সতর্ক করা হয়েছে। কেউ যদি নিয়ম না মানেন এবং তার ফলে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বনদফতরের আবেদন—আনন্দ করুন, তবে দায়িত্ব নিয়ে। সামান্য অসতর্কতাই বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই নিয়ম মেনে পিকনিক করুন এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করুন।





