এই পরিস্থিতিতে ঠিক উল্টো ছবি ধরা পড়ল মধ্যমগ্রামের বাদুড়তলায়। নিপা সংক্রমণের খবর জানা সত্ত্বেও সেখানে নেই বিশেষ কোনও সতর্কতা বা আতঙ্ক। বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার বাদুড়ের সঙ্গে স্বাভাবিক সহাবস্থানে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। মধ্যমগ্রাম চৌমাথা থেকে বাদু রোড ধরে আবদালপুর পেরোলেই পড়ে পাটুলি বাদুড়তলা, মধ্যমগ্রাম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড। প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন একটি বিশাল বটগাছের শাখা-প্রশাখায় আশ্রয় নিয়েছে সহস্রাধিক বাদুড়। এই বটগাছকে ঘিরেই এলাকাটির নামকরণ ‘বাদুড়তলা’।
advertisement
চারপাশে ঘনবসতি, মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বটগাছের ডাল থেকে ঝুলে থাকা বাদুড়, সন্ধ্যায় তাদের উড়ে যাওয়া ও ভোরে ফিরে আসা, সবই এলাকাবাসীর কাছে নিত্যদিনের চেনা দৃশ্য। রাস্তায় মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত, কোথাও মাস্ক বা বিশেষ সতর্কতার চিহ্ন নেই। বটগাছের পাশেই একটি বাড়ির সামনে বসে সেলাইয়ের কাজ করতে দেখা গেল তানজিরা খাতুনকে। স্থানীয় বাসিন্দা আনসার আলীর কথায়, বারাসতে দু’জন আক্রান্ত হয়েছে শুনেছি। কিন্তু এখানে বাদুড়ের সঙ্গে থাকতে আমাদের কোনও সমস্যা হয়নি। আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আর এক বাসিন্দা আব্দুল শেখ জানান, বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকেই এই বটগাছ আর পাশের আমগাছে বাদুড় রয়েছে। বিষয়টা আমাদের কাছে স্বাভাবিক। মধ্যমগ্রাম পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বটগাছকে ঘিরে একটি বায়োডাইভারসিটি পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে বাসিন্দাদের সচেতন করতে প্রচার চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। নিপা আতঙ্কের আবহে বাদুড়তলায় এই সচেতনতা-হীন স্বাভাবিক জীবনযাপন ঘিরেই উঠছে প্রশ্ন!






