পশ্চিম মেদিনীপুরে বিভিন্ন জায়গায় মেলার আয়োজন হয়। সেই মেলায় নিজেদের হাতের তৈরি জিনিস নিয়ে পসরা সাজান মহিলারা। একদিকে যেমন নানা হাতের কাজ তেমনই খাবারেরও আইটেম নিয়ে ব্যবসা করেন তারা। তবে গ্রামীণ মহিলাদের উৎসাহিত করতে সরকারিভাবে নানা লোনের ব্যবস্থা করা হয়। শুক্রবার জেলা শহর মেদিনীপুরের প্রদ্যোৎ স্মৃতি সদনে অনুষ্ঠিত দশম মেগা লোন প্রদান শিবিরে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক (মিশন ডিরেক্টর) ড. গোবিন্দ হালদার প্রমুখ।
advertisement
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের কর্মসূচির মাধ্যমে ৭১৭৫টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী উপকৃত হয়েছে। জেলা পর্যায়ের এই ক্রেডিট ক্যাম্পে ২১৫টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী ৩০ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছে। বাকি ৬৯৬০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী ব্লক স্তরের মেগা ক্রেডিট ক্যাম্প থেকে ঋণ পাবে। ২১৫টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মধ্যে ৬৯টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী ২০ লক্ষ টাকার বেশি ঋণ পাবে।
জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, ‘মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলাই প্রধান লক্ষ্য। মহিলারা স্বনির্ভর হলে জেলার অর্থনীতি বদলে যাবে। চলতি অর্থবছরেও বহু সংখ্যক স্বনির্ভর গোষ্ঠী ঋণ পেয়ে উপকৃত হয়েছেন।’
উল্লেখ্য, গত আর্থিক বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অন্যদিকে, চলতি আর্থিক বছর শেষ হওয়ার চার মাস আগেই ঋণ-প্রদানের বার্ষিক ‘টার্গেট’ তাঁরা ছুঁয়ে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক। চলতি অর্থবর্ষে ২২১৫ কোটি ঋণ দেওয়া হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই ঋণ দানের প্রক্রিয়ায় জেলার মধ্যে খড়গপুর-১, গড়বেতা -১ ও কেশপুর ব্লক এগিয়ে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক মিশন ডিরেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক (কৃষি) গোবিন্দ হালদার বলেন, ‘এই জেলার মহিলারা রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পেয়েছেন। মহিলারা খুবই ভাল কাজ করছেন। কেউ পশুপালন, কেউ ফুলচাষ, কেউ হাতের কাজ করে সমৃদ্ধ হচ্ছেন। তাঁদের তৈরি জিনিস বিদেশেও যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁরা পুরস্কৃতও হচ্ছেন। সেই সঙ্গেই দিশা দেখাচ্ছেন অন্য মহিলাদেরও।’
স্বাভাবিকভাবে সরকারিভাবে ঋণ নিয়ে একদিকে যেমন স্বনির্ভর হয়েছেন তারা, তেমনই সমাজের কাছে নতুন বার্তা বহন করছেন এই সকল মহিলারা।






