সেতু নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকারকে মোট প্রায় ১২.৯৭ একর জমি কিনতে হয়েছে। এর মধ্যে কাকদ্বীপ অংশে ৭.৯৫ একর এবং কচুবেড়িয়া অংশে ৫.০১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে এবং শীঘ্রই বাকি প্রায় ১৫ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে।
advertisement
বন্দে ভারত স্লিপার কোন কোন জেলার উপর দিয়ে যাবে? কত ভাড়া? পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামোয় বড় সংযোজন
পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, গঙ্গাসাগর সেতু প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১,৬৭০ কোটি টাকা। সেতুটি চার লেনের হবে, যেখানে ক্যারেজওয়ের প্রস্থ ৮ মিটার এবং উভয় পাশে ১.৫ মিটার চওড়া ফুটপাত থাকবে। প্রস্তাবিত নকশায় সেতুটি দ্বিতীয় হুগলি সেতু বা নিবেদিতা সেতুর আদলে তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড। পূর্ত দফতরের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর টানা দশ বছর সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ওই সংস্থার উপরেই থাকবে।
প্রসঙ্গত, গঙ্গাসাগর সেতু তৈরির প্রস্তাব প্রথমে কেন্দ্রের তরফে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। প্রায় ছ’বছর আগে প্রস্তাবিত তাজপুর বন্দরের অংশীদারিত্বের বিনিময়ে কেন্দ্রকে এই সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল রাজ্য সরকার। যদিও অভিযোগ, সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও পরবর্তীতে কেন্দ্র কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ করেনি। এর পরেই সাগরদ্বীপের সাধারণ মানুষ এবং প্রতি বছর গঙ্গাসাগর মেলায় আগত লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকেই সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই সেতু নির্মিত হলে গঙ্গাসাগর মেলা চলাকালীন যাতায়াতের দীর্ঘদিনের সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলে আশা করছে প্রশাসন। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নেও গঙ্গাসাগর সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
