সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাঙালি ভুলতে বসেছে বাংলার বহু পুরোনো ঐতিহ্য। যেমন পৌষ সংক্রান্তি আসলেই বাঙালির ঘরে ঘরে চলে নবান্ন উৎসব, তার প্রস্তুতিও থাকে বিস্তর। ঢেঁকিতে চাল ভেঙে পিঠে, আর টুসু গান। এক কথায়, পৌষ সংক্রান্তি এলেই বাংলার ঘরে ঘরে চলে পিঠে পার্বণের পালা। বর্তমানে শহর থেকে গ্রামগঞ্জ সর্বত্রই কমেছে ঢেঁকির কদর। কারণ, মানুষ এখন বড়ই ব্যস্ত। বর্তমানে মেশিনে চাল কুটে তৈরি হয় পিঠে ফলে কদর কমেছে ঢেঁকির। কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনার রাইলা গ্রামের চিত্রটা খানিক ভিন্ন।
advertisement
আরও পড়ুন- গঙ্গাসাগর মেলায় অসুস্থদের সাহায্য করতে প্রস্তুত হেলিকপ্টার
এখানে এখনও কদর রয়েছে ঢেঁকির। তাই পৌষ সংক্রান্তির আগে চাল কোটার জন্য মানুষ ভিড় করছেন রাইলা গ্রামের গোপাল ঘোষের বাড়িতেই। তিন পুরুষের আমল পেরিয়ে গেলেও এখনও অক্ষত তাদের পরিবারের বাবলা কাঠের তৈরি ঢেঁকি। এখনও তারা সযত্নে রাখে তাদের এই ঢেঁকিটি। সেই ঢেঁকিতেই এখনও বছরে একবার চলে চাল কোটার উৎসব। পুরো রাইলা গ্রামের মানুষ আসেন চাল কোটার জন্য। কারণ মাঝে আর একটা দিন তারপরই পৌষ সংক্রান্তি।
পরিবার ও স্থানীয় বয়স্কদের কথায়,মেশিনের ভাঙা চালের পিঠেতে তেমন স্বাদ পাওয়া যায় না। ঢেঁকিতে চাল ভেঙে পিঠে খাওয়ার মজাই আলাদা। তাই চাল কোটার জন্য এখন ভরসা গ্রামের একমাত্র টিকে থাকা ঘোষ পরিবারের এই ঢেঁকি। আগে এই রাইলা গ্রামে ঢেঁকির সংখ্যা বেশি ছিল কিন্তু বর্তমানে এই ঘোষ পরিবারের একটি মাত্র ঢেঁকিই ভরসা পড়শি থেকে গ্রামের মানুষের।
অনেক পরিবারের ঢেঁকি ব্যবহার না হয়ে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এই রাইলা গ্রামে আগে রাত জেগে লম্বা লাইন দিয়ে চলতো এই পরিবারের ঢেঁকিতে চাল কোটা এখন তা অনেকটাই ফিকে পড়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন ঘোষ পরিবারে চাল কুটতে আসা গ্রামের মানুষজন। তবে মেশিনের গুড়ের পিঠের স্বাদের থেকে ঢেঁকিতে চাল কুটে তার পিঠের স্বাদ অনেক সুস্বাদু। তাই মকর সংক্রান্তির আগে এখনও ঘোষ পরিবারের ঢেঁকিতে চাল কুটতে ভিড় জমাচ্ছে গ্রামের মানুষজন। আগের মতো চাল কুটে পিঠে তৈরির রেওয়াজ হারিয়ে গেলেও আজও চাল কোটার সঙ্গে পৌষ সংক্রান্তি পালনে মেতে ওঠে এই রাইলা গ্রাম।
সুকান্ত চক্রবর্তী
