সে সময় রাস্তায় শুরু হয় ট্রামের দাপট। তখন আর সেই কারণে বাসের প্রয়োজন পড়েনি। ধীরে ধীরে যাতায়াত বাড়তে থাকায় ক্রমেই পরিবহণের জন্য় অন্য ব্যবস্থার চাহিদা বাড়ে। আবারও বাস ফিরে আসে কলকাতার মানচিত্রে। কলকাতা শহরে প্রথম বাস চলে ১৯১৮ সালে। আবদুল এ শোভন নামক এক ব্যক্তি দুটি রুটে বাস চালিয়েছিলেন। সেই রুট দুটি হল শিয়ালদা থেকে বেলেঘাটা ও খিদিরপুর থেকে মেটিয়াব্রুজ।
advertisement
আরও পড়ুন: পাবলিক টয়লেটে দরজা আর মেঝের মাঝে ফাঁক থাকে কেন বলুন তো? রয়েছে বড় কারণ! জানলে মাথা ঘুরে যাবে
এর ঠিক ৪ বছর পর ১৯২২ সালে ওয়ালফোর্ড অ্যান্ড কোম্পানির তৈরি বাস চালাতে শুরু করে ক্যালকাটা ট্রামওয়ে কোম্পানি বা সিটিসি । তখন থেকেই কলকাতায় পুরোদমে বাস পরিষেবা চালু হয়। এছাড়াও ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যায় যে অল্পবিস্তর কিছু রুট, যেমন রাম রাজাতলা থেকে হাওড়া স্টেশন বাস চালু হয় সেই সময় কালেই।
এর সঙ্গে সঙ্গে চালু হতে থাকে বালিখাল, শিবপুর এবং হাওড়া জেলার বিভিন্ন বাস রুট। ১৯২৫ সালে গঠন বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠন বেঙ্গল বাস সিন্ডিকেট। তারপর ১৯২৬ সালে কোম্পানির হাত ধরে সর্বপ্রথম রাস্তায় নামে আইকনিক ডাবল ডেকার বাস। উত্তরে শ্যামবাজারকে দক্ষিণের কালীঘাটের সঙ্গে যুক্ত করে ওই বাস।
এভাবেই ধীরে ধীরে একের পর এক রুটে বাসের চাহিদা বাড়তে থাকে। ক্রমেই কলকাতা ও হাওড়া ছাড়িয়ে হুগলি জেলা-সহ আরও নানা জায়গায় বাস রুটের রমরমা বাড়তে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম রুট হল ৩ নম্বর রুট। যেটি তখন শ্রীরামপুর থেকে বালিখাল রুটে চলতো। ১৯৩১ সালের একটি তথ্যে পাওয়া যায় যে বালিখাল থেকে হাওড়া রুটে তখন কম করে ২৪টি বাস চলত। শ্রীরামপুর থেকে বালিখাল রুটে ৩২টি বাস চলত।
এছাডা়ও বাস চলতো শ্রীরামপুর থেকে চুঁচুড়া। ১৯৪০ সালে গঠন করা হয় রিজিওন্যাল ট্রান্সপোর্ট অথরিটি যারা বাস অপারেটরদের পারমিট জারি করা শুরু করে সেই সময় থেকে। ১৯৪০ সালে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিগত সমস্যার কারণে বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেয় সিটিসি। এরপর ১৯৪৫ সালে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা তারপর ১৯৪৮ সালে কলকাতা রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা ।
ধীরে ধীরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন বাস রুটের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেয় সিএসটিসি। ১৯৪৮ সালে তৈরি হওয়া সিএসটিসি ২০২৩ সালে ৭৫ বছরে পদার্পণ করছে। ১৯৬৩ সালে গঠিত হয় দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা । সেই সংস্থারও ৬০ বছর হয়েছে ২০২৩ সালেই। দ্বিতীয় হুগলি সেতু চালু হওয়ার পরে ১৯৯২ সালে পুনরায় বাস পরিষেবা চালু করে। তাদেরও বাস পরিষেবার বয়স ১০০ বছর পেরিয়েছে
সুমন সাহা






