সাধারণ দোকানে ৫ বা ১০ টাকার বিনিময়ে চা মিললেও, এই দোকানে চা পানের শর্তটি বেশ অভিনব। এখানে বসে গান গাইলেই কড়কড়ে নোটের বদলে উপহার স্বরূপ মেলে এক ভাঁড় গরম চা। দোকানের অন্দরসজ্জাতেও রয়েছে সাঙ্গীতিক ছোঁয়া। তক্তার ওপর সাজানো টেনর এবং গিটার। দেওয়ালে লোকশিল্পী তারক দাস বাউল সহ বিশিষ্ট শিল্পীদের ছবি। একদিকের দেওয়ালে বড় বড় করে লেখা ‘গান গাইলেই চা ফ্রী’। এমনকি দোকানের বাইরের দেওয়ালেও লেখা রয়েছে গানের স্তবক।
advertisement
এই অভিনব উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন ইলামবাজারের জয়দেবের বাসিন্দা যুবক শুভদীপ রজক। একসময় অভাবের তাড়নায় পড়াশোনা ছেড়ে বোলপুরে সোনার কারিগরের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু রক্তে যার গান, তাকে কি আর চার দেওয়ালে আটকে রাখা যায়? অসুস্থ বাবার বন্ধ হয়ে যাওয়া চায়ের দোকানের হাল যখন ধরলেন, তখনই মাথায় এল ‘নেশা ও পেশা’কে এক করার ভাবনা। সাধু দাস ও কাঙাল খ্যাপার কাছে টেনর বাজানো শিখে এখন শুভদীপ নিজেই গায়ককে যোগ্য সঙ্গত দেন।
বর্তমানে জয়দেব মেলা উপলক্ষে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় এই দোকানে। কাটোয়া থেকে আসা সঙ্গীতশিল্পী সঞ্জয় সান্তারা বা আসানসোলের পর্যটক অমিত বাউরি সকলেই এই উদ্যোগে অভিভূত। সঞ্জয় বাবু বলেন, “চায়ের দোকানে এসে গান শুনিয়ে ফ্রিতে চা খেলাম, এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি।
আরও পড়ুন- হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের প্রতীক, রাজবাড়ির অন্দরে আজও অটুট সাবেকি পালকি
অচেনা শিল্পীদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য শুভদীপকে ধন্যবাদ।” শুভদীপের কথায়, “ব্যবসাটা পেটের জন্য করতে হয়, কিন্তু নেশা আমার গান। কেউ এসে গান শোনালে তাকে তো কিছু উপহার দিতে হয়, তাই আমি চা খাওয়াই। এতে আমার ব্যবসাও হচ্ছে আবার গানের তালিমও চলছে।” অসুস্থ বাবা তপন কুমার রজকও ছেলের এই সৃজনশীল ভাবনায় অত্যন্ত খুশি। সুর আর স্বাদের এই মেলবন্ধনে ‘চা চক্র’ এখন জয়দেবের অন্যতম জনপ্রিয় আড্ডাস্থল।





