East Medinipur News: হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের প্রতীক, রাজবাড়ির অন্দরে আজও অটুট সাবেকি পালকি
- Reported by:Saikat Shee
- hyperlocal
- Published by:Riya Das
Last Updated:
East Medinipur News: পালকি হারিয়ে গেছে, কিন্তু তার প্রতীক বর্তমানে বেঁচে আছে। যেকোনও ছুটির দিন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদল রাজবাড়িতে গেলেই দেখা মিলবে এই পালকির। রাজবাড়ির সংগ্রহশালা রাখা হয়েছে রাজবাড়ির ব্যবহৃত পালকি।
পালকির সঙ্গে ভারতীয় সভ্যতা সংস্কৃতির সংযোগ আজ থেকে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ২৫০ বছর আগে। যদিও কোন কোন ইতিহাসবিদরা মনে করেন তার আগে থেকেও পালকি ভারতীয় সভ্যতার ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ছিল এই পালকি। কিন্তু বর্তমানে সেই পালকির দেখা পাওয়া যায় না।
advertisement
রেশমি পর্দায় ঢাকা, কাঠের কারুকাজে মোড়ানো, যেন এক চলমান কবিতা। সেই পালকি শুধু বাহন ছিল না, ছিল এক নিঃশব্দ শোভাযাত্রা, এক নারীর গোপন যাত্রা, এক সমাজের প্রতিচ্ছবি। পালকি ছিল ঐতিহ্যের প্রতীক। রাজা জমিদার ধনী ব্যক্তিদের যাতায়াতের মাধ্যম পালকি। পরবর্তীকালে গ্রামবাংলায় বিয়েতে পালকির বহুল প্রচলন ছিল। কিন্তু কালের নিয়মে এই পালকি আর দেখা যায় না। বয়স্ক পালকি বাহকেরা পুরনো দিনের স্মৃতি আঁকড়ে বসে রয়েছে। আর তাদের বর্তমান প্রজন্ম ভিন্ন পেশায়।
advertisement
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদল রাজবাড়িতে অন্যান্য জিনিসপত্রের পাশাপাশি বর্তমানেও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল স্মারক হিসাবে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে পালকি। এখন পালকি ব্যবহার না হলেও পালকি এখনও রাখা আছে রাজবাড়ির অন্দরে। সাধারণ পর্যটকদের দেখার জন্য রাখা হয়েছে এই পালকি। জানা গিয়েছে, এক সময় এই পালকি রাজবাড়ির রানিরা ব্যবহার করতেন।
advertisement
পালকির ভেতরে বসে থাকা মুখটি থাকত অদৃশ্য, কিন্তু তার উপস্থিতি ছিল অনুভবযোগ্য। চোখের ভাষা, পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা কৌতূহল, ভয়, কিংবা স্বপ্ন—সবই যেন ছায়ার মতো ভেসে বেড়াত। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো জানত না, সেই রেশমি পর্দার আড়ালে কী গল্প লেখা হচ্ছে। কিন্তু তারা অনুভব করত, এই যাত্রা শুধু শরীরের নয়, আত্মারও। পালকির উপস্থিতি বাংলা সাহিত্য, সিনেমা ও গল্পে।
advertisement
ব্রিটিশ শাসন কালে এদেশে বসবাসকারী ইউরোপীয়রা পালকির প্রতি আগ্রহ দেখালেও। ব্রিটিশ আমল থেকেই পালকির পথ অবরুদ্ধ হয়। রেলগাড়ি, মোটরগাড়ি, আর আধুনিকতার চাপে পালকি হয়ে পড়ে অতীতের এক নিঃশব্দ স্মৃতি। আর ঐতিহ্যের প্রতীক হিসাবে রয়ে গিয়েছে। রাজবাড়ির সংগ্রহশালায় স্থান হয়েছে পালকির সংগ্রহশালায় রাখা সেই পালকির পুরনো কাঠের গায়ে এখনও লেগে আছে এক নারীর নিঃশ্বাস, এক বিয়ের দিনের উল্লাস, এক বিদায়ের কান্না।
advertisement
এ বিষয়ে অঞ্চলে ইতিহাসবিদ জয়দেব মালাকার জানান, " এক সময় সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারীদের যাতায়াতের মাধ্যম ছিল পালকি। গ্রামেগঞ্জে ধনী সম্ভ্রান্ত পরিবারের বিয়েতেও পালকি ব্যবহার হত। পরে ব্রিটিশ আমল শুরু হলে মোটর গাড়ি এসে যাওয়ায় পালকি সেই ঐতিহ্যের জায়গা হারায়। বর্তমানে তা সংগ্রহশালা ছাড়া দেখা যায় না। মহিষাদল রাজবাড়ি সংগ্রহশালায় রাজবাড়ির ব্যবহৃত পালকি রয়েছে।"
advertisement








