জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ড রাজ্যের চাকুলিয়া থানার অন্তর্গত ডোমরো গ্রামের বাসিন্দা সুধীর শবর (৬০) ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের পর মরদেহ সৎকারের জন্য বাড়ি নিয়ে যাওয়ার মতো গাড়ি ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় পরিবার।উপায় না পেয়ে মেডিক্যাল কলেজের মর্গের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতের পরিবারের সদস্যরা।
advertisement
আরও পড়ুন: নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে পুরুলিয়ায় ক্রিকেট খেলোয়াড়ের প্রশংসনীয় উদ্যোগ, মাঠে ফিরছে খুদেরা
তাদের সেই আর্থিক দুরবস্থার দৃশ্য দেখে হাসপাতালেরই এক অস্থায়ী কর্মী প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানায়। এমন পরিস্থিতিতে সহযোগিতার আশা নিয়ে ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় পরিবারের তরফে। ঘটনার কথা জানা মাত্রই সভাধিপতি আর্থিক সহযোগিতা করে মৃতদেহ বাড়ি পৌঁছনোর ব্যবস্থা করেন। মৃতের ছেলে জীতেন শবর বলেন, “ময়নাতদন্তের পর বাবার দেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য পঞ্চায়েতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু কোনও সাহায্য পাইনি। আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। সভাধিপতির সাহায্যে আজ বাবাকে শেষকৃত্যের জন্য বাড়ি নিয়ে যেতে পারছি।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
জেলা পরিষদ সভাধিপতির এমন ভূমিকায় কার্যত খুশি পরিবারের সদস্যরা। এক রাজ্য থেকে অপর রাজ্যে মৃতদেহ নিয়ে যেতে একদিকে যেমন আর্থিক অসুবিধায় পড়েছিলেন তারা, তেমনই প্রশাসনিক নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। অবশেষে তা সুরাহা করেছেন সভাধিপতি। সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডী বলেন, “জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ান আমার দায়িত্ব। তিনি কোন রাজ্যের বাসিন্দা, তা বড় কথা নয়। মানবিকতার কোনও সীমানা নেই।” একদিকে যখন বিভিন্ন সময় এক রাজ্যের মানুষ অপর রাজ্যের বাসিন্দাদের উপর দুর্ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ শোনা যায়, ঠিক তখন জনপ্রতিনিধি হয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতির এমন ভূমিকার প্রশংসা করছেন অনেকেই।






