ফলে গাছে গুটি ধরার আগেই মুকুল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এলাকার আম চাষি ও গৃহস্থরা। এই পরিস্থিতি নিয়ে মতামত দিয়েছেন উদ্ভিদবিদ রঞ্জিত মুখার্জি। তিনি জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তন, আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং পোকামাকড়ের আক্রমণের যৌথ প্রভাবেই এমন সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে আমের মুকুলে হপার বা অন্যান্য রস শোষণকারী পোকার আক্রমণ হলে তারা মুকুলের রস শুষে নেয়। এর ফলে মুকুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পোকার নিঃসৃত মিষ্টি পদার্থের উপর ছত্রাক জন্মে পাতায় ও মুকুলে কালো আবরণ তৈরি হয়। অনেক সময় এই কারণেই মুকুলে আলকাতরার মতো কালচে ভাব দেখা যায়।
advertisement
রঞ্জিত মুখার্জির মতে, যখন মুকুল আক্রান্ত হয় তখন স্বাভাবিক পরাগায়ন প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়। ফলে মুকুল থেকে গুটি তৈরি হওয়ার আগেই তা শুকিয়ে ঝরে পড়ে। এবছর আবহাওয়ার ওঠানামা, রাতের আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং মাঝেমধ্যে হালকা বৃষ্টির কারণে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে বলেও তিনি জানান। এই সমস্যা কমাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
গাছে নিয়মিত নজরদারি করা, আক্রান্ত মুকুল দ্রুত সরিয়ে ফেলা এবং প্রয়োজনে কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি গাছের চারপাশ পরিষ্কার রাখা, অতিরিক্ত ঘন ডালপালা ছাঁটাই করা এবং গাছের স্বাস্থ্য ভাল রাখলে মুকুল ঝরে পড়ার প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো সঠিক পরিচর্যা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে এখনও অনেক ক্ষেত্রেই আম গাছে গুটি ধরা সম্ভব। তাই এখনই সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে চাষিদের।





