পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, “নতুন হল্ট স্টেশন তৈরির জন্য আপাতত দরপত্র ডাকা হয়েছে। নির্দিষ্ট এলাকাতেই এই হল্ট স্টেশন গড়ে তোলা হবে।” রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যান্ডেল-কাটোয়া শাখায় বর্তমানে মোট ৩০টি স্টেশন রয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি হল্ট স্টেশন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে নতুন ‘শুকদেব হল্ট’।
advertisement
আরও পড়ুনঃ দিনের বেলাতেও খাঁ খাঁ করে এলাকা, ঘরের বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছে মানুষ! লেপার্ড আতঙ্কে কাঁটা সাতালি
হনুমান লাঠিতলা সংলগ্ন এলাকায় এই স্টেশন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রথম ধাপে ৭৯ লক্ষ ৮ হাজার ৭৮৮ টাকা বরাদ্দ করেছে রেল। উল্লেখযোগ্যভাবে কাটোয়ার পানুহাটের বিশ্বশুক সেবাশ্রম সংঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে এই হল্ট স্টেশনের দাবিতে রেল মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিল। এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেও দফায় দফায় দরবার করা হয়। শেষ পর্যন্ত সেই দাবিতেই সিলমোহর পড়ল।
মঠের পরিচালন কমিটির দাবি, বিকিহাট, বেরা, লেক গার্ডেন্স, চরপাতাইহাট, একাইহাট, মণ্ডলহাট, পানুহাট ও সুদপুর এই একাধিক এলাকার মানুষকে কাটোয়া বা দাঁইহাট স্টেশনে পৌঁছতে প্রায় ৮.৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হত। ফলে নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে ভক্তদের ভোগান্তি ছিল চরম। নতুন হল্ট স্টেশন চালু হলে সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। বিশেষ করে দোল উৎসবের সময় কাটোয়ার বিশ্বশুক মঠ দুই বাংলার পুণ্যার্থীদের মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। বাংলাদেশ থেকেও ভক্তদের আগমন ঘটে। কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম হয় এই উৎসবে, তখন যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হয় ভক্তদের।
আশ্রম সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় গোপালগঞ্জ (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে আসা বৈষ্ণব সাধক শুকদেব ব্রহ্মচারী কাটোয়ার বিকিহাট চত্বরে এই মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নামানুসারেই মঠের নাম রাখা হয় বিশ্বশুক মিলন মঠ। ধর্মীয় সাধনার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজেও তিনি এলাকাবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতেন। ধীরে ধীরে তিনি শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেই নয়, ভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছেও এক বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বর্তমান মহারাজ শুকানন্দ মহারাজ জানান, “শুকদেব বাবা মূলত হিন্দু ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যেই এপার বাংলায় এসেছিলেন। প্রথমে হুগলির ইছাপুরে অবস্থান করার পর কাটোয়ার বিকিহাটে আশ্রম গড়ে তোলেন।” মঠ পরিচালন কমিটির সদস্য হীরক বিশ্বাস বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা হল্ট স্টেশনের দাবিতে আন্দোলন করেছি। কাজ শেষ হলে ভক্তদের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি এই এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও বড় পরিবর্তন আসবে।”






