জিএসটি বকেয়া সাত কোটি টাকারও বেশি, সদ্য বাবা হয়েছেন, খুশির এই সময় হঠাৎ যেন দুঃস্থ সংসারে জীবন চালানোর লড়াইটাই বড় কঠিন। অথচ সেই শ্রমিকের নামেই নাকি বকেয়া রয়েছে সাত কোটি টাকার জিএসটি। এমনই অদ্ভুত, আতঙ্কজনক এবং চমকে দেওয়ার মতো ঘটনায় রীতিমতো চোখ কপালে ওই শ্রমিকের।
ঘটনাটি হাওড়ার ডোমজুড়ের। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম এবং স্থানীয় ডোমজুড় থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে কার্তিককে, তাতেই কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে আতঙ্ক এখনও ঘাড় থেকে নামেনি।
advertisement
কার্তিক জানাচ্ছেন, আসল কারণ হতে পারে দেড় বছর আগে বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করা। সেখান থেকে ডকুমেন্টস লিক হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। তবে সে ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক বিল ব্যবহার করা হয়নি। অন্য কোনও ভাবে ইলেকট্রিক বিল-এর কপি যেতে পারে বলেই মনে করছেন তিনি।
হাওড়া খাঁটোরা পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা কার্তিক রুইদাস। খাটোরার বাসিন্দা কার্তিক কাজ করেন ডোমজুড়ের জাতীয় সড়কের ধারে জালান কমপ্লেক্সের একটি কারখানার ল্যাবরেটরিতে। কার্তিকের নামে সাত কোটি টাকা জিএসটি বাকি! শুধু তা-ই নয়, কার্তিক নাকি কেডি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কোম্পানির মালিক। সেখানে কার্তিকের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩৬- ৩৯ কোটি টাকা আদানপ্রদান হয়। তিনি কোটি কোটি টাকা ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ায় অভিযুক্ত। কার্তিক জানান, তাঁর ৯ বছরের মেয়ে আছে। মাস দেড়েক আগে ফের বাবা হয়েছেন তিনি। স্ত্রী পুরোপুরি সুস্থ নন। এই গোটা ঘটনায় আতঙ্কিত তাঁর পরিবারের সকলেই।
কার্তিকের ছোট্ট একটি বাড়ি, যা কয়েক বছর আগে তৈরি হয়েছে, এখনও বাইরের প্লাস্টার বাকি। ভিতরের প্লাস্টার হলেও মেঝে অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। বাড়ি দেখে জিএসটি অফিসাররাও নিশ্চিত হয়ে যান, যে এই বাড়ি বড় কোনও কারখানা মালিকে নয়। পাশাপাশি জিএসটি পোর্টালের মোবাইল নম্বরের সঙ্গে কার্তিকের নম্বরের কোনও মিল নেই বলেও জানতে পারেন তাঁরা। ক্রমেই ঘটনার জট খুলতে শুরু করে।
কার্তিকের পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে কেউ বা কারা তাঁকে ফাঁদে ফেলেছে। এই ঘটনায় ডোমজুড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কার্তিক। হাওড়া সিটি পুলিশের সাইবার শাখা ঘটনায় তদন্তে নেমেছে। কে বা কারা এই তথ্য জাল করে একটি ভুয়ো সংস্থা খুলে কার্তিকের নামে এতবড় আর্থিক দুর্নীতির নথি বানাল, তা নিয়েই তদন্ত করছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি জালিয়াত চক্রের কাজ হতে পারে। জিএসটি পোর্টালে সাধারণ মানুষের আসল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে জাল কোম্পানি তৈরি করে কোটি কোটি টাকার লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে কেউ বা কারা।
— রাকেশ মাইতি





