ঠিক সেই কঠিন সময়ে শিক্ষক শংকর কুমার খাঁড়ার উদ্যোগে আশার আলো দেখা যায়। তাঁর হাত ধরেই কেইউসিটির প্রতিষ্ঠাতা সন্তোষ কুমার দাসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে গঙ্গাধরপুরে কেইউসিটির (KUCT) ৩৩ বিঘা জমি দান করেন তিনি। যা জহর নবোদয় বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎকে নতুন দিশা দেখায়। এরপর ২০১১ সাল থেকে দীর্ঘদিন কেইউসিটির একটি ভবনেই ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে বিদ্যালয়ের শিক্ষাযাত্রা।
advertisement
আরও পড়ুনঃ সরকারি সমবায় অফিস এখন ছাগল ঘর! দু’দশক ধরে জরাজীর্ণ, পূর্বস্থলীতে প্রশাসনিক নীরবতা
অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে। সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ এলাকায় নিজস্ব জহর নবোদয় বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হয় পঠন-পাঠন। নতুন ক্যাম্পাস শুধু ইট-কংক্রিটের পরিকাঠামো নয়, বরং অসংখ্য মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্ন পূরণের এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হয়ে উঠেছে। এ বছরই বিদ্যালয়ে যুক্ত হয়েছে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি।
আগে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে প্রতি শ্রেণিতে ৪০ জন করে ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করলেও, নিজস্ব ক্যাম্পাস পাওয়ায় সেই সংখ্যা এখন দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২৭২ জন। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা বহু মেধাবী পড়ুয়া আজ এখানে নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল অদৃশ কুমার শর্মা আবেগঘন কণ্ঠে জানান, ‘জহর নবোদয় বিদ্যালয় শুধু একটি স্কুল নয়, এটি ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বিতীয় ঘর। এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য আলাদা আবাসন রয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা ও যত্নের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ছাত্র-ছাত্রী প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসে। এই ক্যাম্পাসেই তারা বড় হয়, স্বপ্ন দেখতে শেখে। নিজস্ব ক্যাম্পাস চালু হওয়ায় পড়াশোনার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হয়েছে, আর আমরা বিশ্বাস করি এখান থেকেই ভবিষ্যতের দেশগঠনের কারিগররা তৈরি হবে।’





