দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যুদ্ধের প্রয়োজনে তৈরি হওয়া সেই বিমানঘাঁটির অবশিষ্টাংশ এখনও দেখা যায়। বর্তমানে জায়গাটি পরিত্যক্ত হলেও, বহু ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে এই জায়গার সঙ্গে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান রেঙ্গুন দখল করার পর থেকেই পূর্ব এশিয়ার যুদ্ধের প্রধান ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল বার্মা। সেই সময় জাপানি সেনাবাহিনীর খবরাখবর সংগ্রহের জন্য মার্কিন বায়ুসেনার সদস্যরা মূল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে খানিক দূরে বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজিক জায়গায় আকাশপথে নজরদারির জন্য ঘাঁটি তৈরি করতে শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ শাসকদের নির্দেশে স্থানীয় শ্রমিকদের সাহায্যে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৪৪ সালের জানুয়ারিতে বিমানঘাঁটি তৈরির সেই কাজ শেষ হয়।
advertisement
আরও পড়ুনঃ চরম গরমেও পাহাড়ি ‘এই’ গ্রাম থাকে ‘সুপারকুল’, ৪ দিনের ছুটিতে ডেস্টিনেশন ‘মেঘ পিয়নের দেশ’, রইল ঠিকানা
তৎকালীন বার্মা, চিন, ইন্দোনেশিয়া আর থাইল্যান্ডে নজরদারির জন্যই মূলত এমন একটা জায়গায় ঘন জঙ্গলের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল এয়ারস্ট্রিপ। সেখান থেকে বোমারু বিমানে করে শত্রুপক্ষের উপর নজরদারির দায়িত্বে ছিল মার্কিন সেনার ‘রেড হক’ বাহিনী। তাদের কাজ ছিল আকাশ থেকে বিপক্ষ বাহিনীর সেনাঘাঁটির পজিশনের ছবি তোলা, অকুস্থলের ম্যাপ তৈরি করা, আবহাওয়ার খবর, টেরেন মডেলিং ইত্যাদি সংক্রান্ত খুঁটিনাটি পদাতিক ও বায়ুসেনাকে সরবরাহ করা। সামরিক কাজের জন্য রানওয়ে, সেনাদের ব্যারাক, গোলাবারুদ মজুতের জন্য আলাদা ঘরও নির্মাণ করা হয়েছিল। সেইসবের ধ্বংসাবশেষ এখনও দেখা যায়।
১৯৪৫ সালের অগাস্ট মাসে মিত্রশক্তির কাছে আত্মসমপর্ণ করে জাপান। প্রায় ৬ বছর ধরে চলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। তার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় আকাশপথে নজরদারি। সেইসময়ই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীতে বর্ধমানের এই গুসকরা এয়ারস্ট্রিপের আর কোনও প্রয়োজন ছিল না। সেই থেকে আজ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এই জায়গা। এখন এই জায়গা স্থানীয়রা ধান রোদে দেওয়া, ধান ঝাড়ার মত কিছু টুকটাক কাজে ব্যবহার করেন। দূর-দূরান্ত থেকেও ছবি তোলার জন্য অনেকে আসেন। বর্ধমানের এই জায়গার সঙ্গে আজও জড়িয়ে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস, যা ওই জায়গায় গেলেই বোঝা যায়। পূর্ব বর্ধমানের ওরগ্রাম জঙ্গলের কাছেই এই পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি রয়েছে।
বনোয়ারীলাল চৌধুরী





