গত ২৭ জানুয়ারি প্রতিবেশী দুই জনকে সঙ্গে নিয়ে মহাকুম্ভে গিয়েছিলেন বৈদ্যবাটি জে এন গুপ্ত লেনের বাসিন্দা বছর ৪৮-এর দীনেশ ঘোষ। পেশায় মাছ ব্যবসায়ী দীনেশ ধর্মকর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। এর আগে বেনারস কাশি গয়ায় গিয়েছিলেন। ২০১৩ সালেও মহাকুম্ভে গিয়েছিলেন। তবে সেবার বাড়ি ফিরেছিলেন ঠিকঠাক। কিন্তু এবার তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাবাকে খুঁজে পেতে উত্তরপ্রদেশ রওনা দিচ্ছেন ছেলে হিরন্ময়।
advertisement
আরও পড়ুন- ভুলেও ছোঁবেন না ‘মটরশুঁটি’, যদি থাকে ৬ রোগ…! আপনার ‘চিরশত্রু’ এই সবুজ সবজি, কেন জানেন?
দীনেশের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি আনন্দ বিহার মেলে সাঁতরাগাছি থেকে ট্রেন ধরে দীনেশ ও তার প্রতিবেশী দুই যুবক শুভঙ্কর জানা ও সন্টু মন্ডল। পরদিন দুপুর দুটোয় পৌঁছান প্রয়াগরাজে ২৯ তারিখ ভোর সাড়ে পাঁচটায় সঙ্গম ঘাটে স্নান করতে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয়ে যান দীনেশ। তারপর থেকে আর তার খোঁজ পায়নি শুভঙ্কর ও সন্টু। ঘাটে মাইকে প্রচার করেও খোঁজ পাওয়ার জন্য ঘোষণা করেন। কিন্ত কোনভাবেই খোঁজ পায়নি তারা।
ভয়ানক! ‘পোশাক খুলিয়ে মা তার বন্ধুকে দিয়ে আমায়…’ ১৫ বছরের মেয়েটি যা বলল, হতবাক পুলিশ!
আরও পড়ুন- স্টেশনে একা জবুথবু অবস্থায় বসেছিল মেয়েটি, ‘তুমি কে?’ GRP জিজ্ঞাসা করতেই…ঘাম ছুটল সবার!
দীনেশের পরিবারকে নিখোঁজ হওয়ার খবর জানান তাঁরা। প্রয়াগরাজ থেকে বেনারসে বিশ্বনাথ মন্দিরে যাওয়ার কথাছিল। সেই মতো খোঁজার জন্য সেখানের নিদিষ্ট হোটেলেও যান দুই যুবক। কিন্ত সেখানেও পাওয়া যায়নি তাঁকে।দীনেশকে না পেয়ে শুক্রবার তারা রওনা দিয়েছেন বাড়ি ফিরবেন বলে। পরিবারের তরফে ছেলে প্রয়াগ রাজের জজ টাউনের হেল্প লাইনে ফোন করেন। ছবি ও নাম ঠিকানা দেন। কিন্ত এখনও পর্যন্ত কোন ফোন আসেননি। অসুস্থ হল না হারিয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারছে না পরিবার। তাতেই দুশ্চিন্তায় রয়েছে সকলে।এর আগেও কুম্ভ মেলায় গিয়েছিলেন দীনেশ।কিন্তু এই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি পরিবারকে।
অন্যদিকে হুগলির সিঙ্গুর থেকে রাজু রুইদাস ও তাঁর বন্ধুরা গিয়েছিলেন প্রয়াগরাজে। মৌনি আমাবস্যায় পূর্ণ স্নান করতে। সেখানে তাদের যা অভিজ্ঞতা তা শুনে আঁতকে ওঠার মতন ! কোনমতে বাড়ি ফিরেছেন রাজু ও তাঁর বন্ধুবান্ধব। বাড়ি ফিরে তিনি জানিয়েছেন , যে রাতে পদ পৃষ্ঠের ঘটনা ঘটে সেই রাতে গঙ্গার ঘাটেই অপেক্ষা করছিলেন ভোর হওয়ার জন্য রাজু ও বাকিরা। তিনি শুনতে পান পুলিশ মাইকিং করছে সবাইকে হুরোগুরি করতে বারণ করছে।
তবে গঙ্গার ঘাটে থাকার জন্য তাঁরা প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন সেই রাতে। কারণ তাঁদের থেকে একটু দূরেই গঙ্গায় আসার রাস্তাতেই ঘটেছে এই ঘটনা। পরে যখন সেই রাস্তা দিয়ে রাজুরা ফিরেছেন তখন যা দেখেছেন তারা তা দুঃস্বপ্নের থেকে কিছু কম নয়। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে কম্বল বিছানা পত্র মানুষের জামা কাপড়। বিপর্যয় মোকাবিলা দল পুলিশ বাহিনীরা তখনও উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। কত মানুষ আহত কত মানুষের কান্না হাহাকার ! বাড়ি ফিরে সেই কথা জানিয়েছে রাজুরা।
রাহী হালদার
