প্রত্যেকদিন খুব ভোরে সৃজিতার দিন শুরু হয়। সকালবেলায় মাঠে গিয়ে চলে কঠোর অনুশীলন। স্কুল যাওয়ার আগেই শরীরচর্চা শেষ করে সে। বিকেলেও পড়াশোনার পর আবার মাঠে নামে। হাই জাম্পে তাঁর দক্ষতা ধীরে ধীরে সকলের নজর কেড়ে নিয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও তাঁর প্রতিভা দেখে উৎসাহ দিয়েছেন। সম্প্রতি জেলা বার্ষিক আন্তঃ স্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় হাই জাম্প বিভাগে অংশ নিয়ে একের পর এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে দেয় এই কৃতী কন্যা। শেষ পর্যন্ত জেলা চ্যাম্পিয়নের শিরোপা জিতে নেয় সৃজিতা। তাঁর সাফল্যে গোটা গ্রামে খুশির হাওয়া বইছে।
advertisement
সৃজিতার বাবা পেশায় একজন টোটো চালক। সীমিত আয়ে সংসার চালানো সহজ নয়। মেয়ের পড়াশোনা ও খেলাধূলার খরচ চালাতে প্রায়ই হিমশিম খেতে হয় তাঁকে। তবুও মেয়ের প্রতিভা দেখে কোনওদিন মুখ ভার করেননি। নিজের কষ্ট আড়াল করে হাসিমুখে সবটা সামাল দেন তিনি। সৃজিতার মা-ও সব সময় মেয়ের পাশে থেকেছেন। পরিবারের এই সহযোগিতাই কৃতী কন্যাকে আরও শক্ত করেছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সৃজিতার বাবা বলেন, “মেয়ে বড় হয়ে অনেক দূর যাবে”। এই বিশ্বাসই যেন তাঁকে লড়াই করার শক্তি দেয়। জেলা জয়ের পর সৃজিতার লক্ষ্য এখন রাজ্যস্তর। সে রাজ্য চ্যাম্পিয়ন হতে চায়। খেলাধূলার পাশাপাশি তাঁকে মনে রয়েছে আরও বড় স্বপ্ন। সে একদিন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চায়। দেশরক্ষার ইচ্ছাই তাঁকে অনুপ্রাণিত করে। সৃজিতার এই ভাবনায় গর্বিত তাঁর শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রতিবেশী এবং গ্রামবাসীরা। সবার মুখে একটাই কথা, “এই প্রতিভা যথাযথ সুযোগ পাক”।





