জঙ্গলমহলের ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা যেন বিলাসিতা, এখানে বিজ্ঞানের জ্ঞান সংগ্রহ করা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং। এবার সেটাই করে দেখাচ্ছেন হলদিয়ার গবেষক ডঃ অনির্বাণ দাস। অক্ষরজ্ঞানের পাশাপাশি জঙ্গলমহলের ছাত্রছাত্রীদের মনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার গেঁথে দিতে উদ্যোগী তিনি। জঙ্গলমহলের প্রান্তিক জনপদকে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ার এক পদক্ষেপ। সেই লক্ষ্যে বছরের অধিকাংশ সময় তিনি খেমাশোল, অসুরহাটা, ভালুকতারা কিংবা শালবনির মতো প্রত্যন্ত গ্রামে কাটিয়ে দেন। তাঁর কাছে শিক্ষা কোনও বিলাসিতা নয়, বরং বাঁচার হাতিয়ার। সেখান থেকেই তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারের শিক্ষা দিচ্ছেন।
advertisement
এই বিষয়ে ডঃ অনির্বাণ দাস জানান, “এই ধরনের উদ্যোগ জঙ্গলমহলের আর্থ-সামাজিক কাঠামো বদলে দিতে পারে। জঙ্গলমহলে শিক্ষা আজও এক কঠিন সংগ্রাম। অভাবের তাড়নায় প্রতি বছর স্কুলছুট বা ড্রপআউটের তালিকা দীর্ঘতর হয়। গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিও এখানে কেবল খাতা-কলমের পরিসংখ্যান। কিন্তু এই কর্মশালাটি যেন ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে। ড্রোন ওড়ানোর আনন্দ আর নতুন কিছু শেখার জেদ পড়ুয়াদের মনে এক নতুন সংকল্প গেঁথে গিয়েছে!”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই কর্মযজ্ঞের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন নিবেদিতা চ্যাটার্জি। উপস্থিত ছিলেন শ্রী সাগর ধাওয়া, শ্রী নরেন চ্যাটার্জি, শ্রী সৌম্যজিৎ ঘোষ সহ অনেকেই। আধুনিক যন্ত্র, সার্কিট, ড্রোন, টেকনোলজি, রোবোটিক্স কিংবা ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT)-এর মতো বিষয়গুলি এখন জঙ্গলমহলের কুঁড়েঘরগুলিতে আর ভিনগ্রহের শব্দ নয়। সম্প্রতি জঙ্গলমহলের এক অবারিত প্রাঙ্গণে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। সমবেত হয়েছে প্রায় তিন শতাধিক জনজাতি পড়ুয়া। চোখেমুখে বিস্ময় আর কৌতূহল। উপলক্ষ্য, ড্রোন প্রযুক্তির এক বিশেষ কর্মশালা। হেক্সাকপ্টার, FPV ড্রোন, কোয়াডকপ্টার কিম্বা ন্যানো ড্রোনের মতো যান্ত্রিক নামগুলি তাঁদের কাছে নতুন হলেও, ওড়ানোর নেশায় শিক্ষার্থীরা মশগুল। কয়েক ঘণ্টার নিবিড় প্রশিক্ষণে তাঁরা যেন বুঝে নিল, প্রযুক্তির আকাশ ছোঁয়া মোটেই অসম্ভব নয়।





