পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছেন পূর্ব মেদিনীপুরের এই যুবক। কখনও চাষের জমি, কখনও জঙ্গল, আবার কখনও মানুষের বসতবাড়ির পাশে তাঁকে দেখা যায়। গবেষণার সময় তিনি বুঝেছেন, অধিকাংশ সাপ মানুষকে আক্রমণ করে না। তবু অজ্ঞতা আর আতঙ্কের কারণে তাদের হত্যা করা হয়। এতে শুধু একটি প্রাণই হারায় না, নষ্ট হয় প্রকৃতির ভারসাম্যও। ইঁদুরের মতো ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা বেড়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন। বোঝাচ্ছেন, সব সাপই বিষধর নয়। ভয় নয়, প্রয়োজন সচেতনতা।
advertisement
সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন, অনেক ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ দেরি। সঠিক চিকিৎসা সময়মতো না পাওয়া। এখনও বহু গ্রামে ঝাড়ফুঁকের ওপর ভরসা করেন মানুষ। হাসপাতালে যাওয়ার আগেই সময় পেরিয়ে যায়। এই বাস্তবতা থেকেই তিনি গ্রামে গ্রামে সচেতনতা শিবির করছেন। বোঝাচ্ছেন, সাপের কামড়ের পর কী করা উচিত। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছন জরুরি। কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজন, পাশাপাশি সাপের কামড়ে মৃত্যু হলে সরকার থেকে কী ধরনের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়, সেই তথ্যও তিনি তুলে ধরছেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই অভিজ্ঞতাগুলো শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ রাখছেন না পূর্ব মেদিনীপুরের অর্ধেন্দু। লিখে চলেছেন একের পর এক বই। তার লেখা বইতে উঠে এসেছে সাপ, মানুষ আর প্রকৃতির সম্পর্কের গল্প। গ্রামবাংলার এক সাধারণ যুবক কীভাবে নীরবে সমাজের একটি বড় সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়াতে পারেন, তাঁর পথচলা সেই কথায় মনে করিয়ে দেয়। ভয়ের বদলে বোঝাপড়া তৈরি হলে মানুষ ও প্রকৃতি যে একসঙ্গে বাঁচতে পারে, অর্ধেন্দু দাস মহাপাত্রের কাজ সেই আশার কথায় বলছে।





