আরও পড়ুনঃ সঙ্গীতজগতের নক্ষত্রপতন! দীর্ঘ অসুস্থতার পর থামল সুরের যাত্রা, প্রয়াত খ্যাতনামা সুরকার অভিজিৎ মজুমদার
জানা যায়, ভূপতিনগর থানার ধাইপুকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা ভক্তিপদ মণ্ডল। বয়স ৫৮, পেশায় কৃষক। তিন বছর আগে এক মহিলার প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খোয়ান তিনি। তারপর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। শুক্রবার দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর নিজের ঘরে ধারাল ছুরি দিয়ে নিজের গলা কেটে ফেলেন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগবেড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায়। গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসকেরা রেফার করে। ওই বয়স্ক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয় তাম্রলিপ্ত গভার্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে।
advertisement
মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা দেখার পর সিদ্ধান্ত নেয় অস্ত্রোপচার ছাড়া কোনওভাবেই ওই প্রৌঢ়কে বাঁচানো সম্ভব না। কিন্তু এই ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার বড় শহরের সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে সম্ভব। যা অনেকটাই ব্যয় সাপেক্ষ। আবার স্থানান্তরিত করে কলকাতায় রেফার করা হলে ওই বয়স্ক ব্যক্তির প্রাণহানির সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই তাম্রলিপ্ত গভার্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকেরা অস্ত্র প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয়। গঠিত হয় মেডিকেল টিম। প্রায় তিন ঘন্টার জটিল অস্ত্রোপচারের পর ওই প্রৌঢ়ের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
ইএনটি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. সৌমিক সাহা বলেন, “এ ধরনের জটিল অস্ত্রপোচার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তথা মেডিকেল কলেজে এই প্রথম। রোগীর শ্বাসনালীর অনেকটা অংশ কেটে যাওয়ায় অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। কলকাতা পাঠানোর মতো সময় ছিল না। দ্রুত পাঁচ জনের একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করা হয়। কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয় শ্বাসনালী। বর্তমানে ওই প্রৌঢ় সিসিইউ-তে স্থিতিশীল রয়েছেন।” বেসরকারি হাসপাতালে এই চিকিৎসার খরচ কয়েক লক্ষ টাকা। যা জোগানো অসম্ভব ছিল দরিদ্র ওই পরিবারের পক্ষে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভাইকে ফিরে পেয়ে আপ্লুত দাদা শক্তিপদ মণ্ডল। হাসপাতালের এই সাফল্যে খুশি জেলা স্বাস্থ্য মহলও।






