পাতা ঝড়ানোর পালা শেষ। বসন্ত এসে গিয়েছে। এ বসন্ত মনের, অপেক্ষা, উপলব্ধি, প্রেম বিনিময়ের। সেই প্রেমের প্রকাশ অনুভব ধরা পড়ল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ তারাবাগ চত্ত্বরে। আজ শুধুই ভালবাসার দিন।
advertisement
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্রছাত্রীদের কাছে আজ শুধুই প্রেমের দিন। প্রেমের জোয়ারে ভেসে যাওয়ার দিন। এই রীতি বর্তমান পড়ুয়াদের কাছে আবেগের। প্রাক্তনীদের কাছে নস্টালজিয়ার। আজকের দিনে অনেকেই মনের গহনে লুকিয়ে রাখা কথাটি বলেছেন অস্ফুটে। জানিয়েছেন, হাত ধরাধরি করে পাশে থাকার প্রত্যয়। সারা জীবন পাশাপাশি চলার অঙ্গীকার। নতুন করে পথ চলার শুরু।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ সরস্বতী পুজোর পরদিন তত্ত্ব পাঠানো হয় এক ছাত্রাবাস থেকে অন্য ছাত্রাবাসে। মীরাবাঈ, নিবেদিতা, প্রীতিলতা, সরোজিনী, গার্গী ছাত্রাবাস থেকে ছাত্রীরা মাথায় ফুল বেঁধে সেজেগুজে যায় অরবিন্দ, চিত্তরঞ্জন, নেতাজি, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্র কিংবা আইনস্টাইন হস্টেলে। তেমনই ছেলেরা বাজনা বাজিয়ে যায় ছাত্রী হস্টেলগুলিতে। তত্ত্বের ডালিতে থাকে চকোলেট, চিপস, পারফিউম-সহ কত কি। থাকে হৃদয়ের অর্ঘ্যও। ভালবাসার অর্ঘ্য। ছেলেরা ফুল ছড়িয়ে বরণ করে নেয় মেয়েদের।
আজ ছাত্রীবাসে ঢোকায় কোনও বাধা নেই। সেই সুযোগে গুটিগুটি পায়ে মনের গভীরে বাসা বাঁধে বসন্ত। মন বলে, এমনও দিনে তারে বলা যায়। বলা যায়, ভালবাসি। অনেকের কাছে আজ জীবনসঙ্গীর হাত ধরে পথ চলা শুরুর দিন। ইশারায় পাকা কথা বলা হয়ে যায় আজই।
আজ ছাত্রীদের কাছে অনভ্যাসের শাড়ি, এলো চুল, হালকা মেক আপ। আজ যে তার নজর কাড়ার দিন। ছেলেদের কাছে পাঞ্জাবি। ভালবাসি বলতে পারার ফূর্তি। তাকে দেখিয়ে বাজনার তালে দু হাত তুলে নাচার স্বাধীনতা। সে অভিব্যক্তিতে সব পেয়েছির বহিঃপ্রকাশ। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান আজকে। এরপর পার্কে বাদামভাজা, মাল্টিপ্লেক্সে পপকর্ন। দুজনে।
