তাঁরা তাঁর বাড়িতে এসে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। পাশাপাশি মল্লিকা চোঙদার আশ্বাস দেন, উপযুক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁকে একটি ঘর পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যোগাযোগের সুবিধার জন্য একটি মোবাইল ফোন দেওয়ার কথাও জানান ইজাজ হোসেন। এই সহানুভূতি ও সহায়তা পেয়ে আবেগে আপ্লুত শেখ আশরাফ বলেন, “এভাবে যে সবাই আমার পাশে দাঁড়াবে, ভাবতেই পারিনি। এতদিন অন্ধকারে ছিলাম, আজ আলো পেলাম। এবার যদি একটা ঘর হয়, তাহলে আমার জীবনের কষ্ট অনেকটাই কমবে।”কিন্তু এই আলো পাওয়ার আগে তাঁর জীবন ছিল চরম দুর্দশায় ভরা।
advertisement
পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইঁটাচাঁদা এলাকায় প্লাস্টিক ও টিনের ছাউনি দেওয়া মাটির একফালি ঘরে বসবাস করতেন তিনি। চারপাশে নোংরা আবর্জনা, ঘরের ভিতরেই বিষধর সাপের আনাগোনা! এই অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই দিনের পর দিন জীবনযুদ্ধ চালিয়ে গেছেন তিনি। দিনমজুরের কাজে যা সামান্য রোজগার হত, তাতেই কোনওমতে একবেলা দু’মুঠো চাল জুটত। কাজ না থাকলে উপবাসই ছিল নিয়তি। দারিদ্র্যের কারণেই প্রায় পনেরো বছর আগে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরা বাপের বাড়ি চলে গেছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আশরাফের কথায়, “ঘর করার ক্ষমতা ছিল না বলেই ওরা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।” ঘরটি যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, শহরের মাঝেই এভাবে একজন মানুষ এত বছর চরম ঝুঁকিতে দিন কাটালেও বিষয়টি নজরে আসেনি। আজ বিদ্যুৎ এসেছে, মানুষের সহানুভূতিও জুটেছে। কিন্তু শেখ আশরাফের লড়াই এখনও শেষ নয়। শহরের রঙিন আলোর আড়ালে থাকা এই মানুষটির জীবনে স্থায়ী আলো ফেরাতে এখন প্রশাসনের পরবর্তী উদ্যোগের দিকেই তাকিয়ে সবাই।






