এই দোকানের বিশেষত্ব একটাই, কোনও বিক্রেতা নেই। পড়ুয়ারা নিজেরাই প্রয়োজনীয় জিনিস তুলে নিচ্ছে এবং নির্ধারিত অর্থ নির্দিষ্ট বক্সে রেখে দিচ্ছে। কেউ পয়সা দিচ্ছে কি না, তা দেখার বা বলার জন্য কেউ নেই। পুরো ব্যবস্থাই দাঁড়িয়ে আছে সততার ওপর। উদ্দেশ্য একটাই, ছোটবেলা থেকেই পড়ুয়াদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের বীজ বপন করা। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে ‘সৃষ্টি’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সংগঠনের তরফেই এই স্বয়ংক্রিয় দোকানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরফে হারাধন ভট্টাচার্য বলেন, “পড়ুয়াদের কথা ভেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি এটা একটা সততার পাঠ।”
advertisement
আরও পড়ুন: জানুয়ারিতে মিলছে গত বছরের আটা! জলপাইগুড়িতে রেশন ব্যবস্থার ভয়াবহ গাফিলতি ফাঁস হতেই শোরগোল
আদিবাসী অধ্যুষিত এই গ্রামে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র ১৮ জন। বিদ্যালয়ে রয়েছেন মাত্র দু’জন শিক্ষক। সংখ্যায় কম হলেও শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ গঠনের প্রতি দায়বদ্ধতায় কোনও ঘাটতি নেই বলেই জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গ্রামটি প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় আশেপাশে খাতা বা বইয়ের কোনও দোকান নেই। পড়াশোনার সামগ্রী কিনতে পড়ুয়াদের অনেকটা দূরে যেতে হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই পড়াশোনার আগ্রহ কমে যায়। এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যৌথভাবে ‘অনেস্টি শপ’ চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বোকা কিসকু বলেন, “এটা বেশ ভাল লাগল। সৃষ্টির এই উদ্যোগ সত্যিই ভাল। পড়ুয়াদের জন্য এটা অনেক কাজে আসবে আশা করি।”এই দোকান শুধু পড়ুয়াদের প্রয়োজন মেটাচ্ছে না, বরং তাদের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও দিচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই সততার সঙ্গে লেনদেনের অভ্যাস গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে তারা আরও দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে উঠবে। জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামে এই ধরনের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে বিভিন্ন মহলে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে অন্য বিদ্যালয়েও এই মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। শিক্ষা শুধু বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এই ‘অনেস্টি শপ’ তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।





