কিন্তু কেন এমন কাণ্ড ঘটালেন তিনি? জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, জয়ন্ত পাল নামে ওই পুলিশ আধিকারিক বিবাহিত৷ তাঁর একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে৷ তার পরেও হাওড়ার আন্দুলের বাসিন্দা পার্লার কর্মী ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি৷ দীর্ঘ দিন ধরেই এই পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন ওই পুলিশ আধিকারিক৷ হাওড়ায় বান্ধবীর নামে তিনি একটি ফ্ল্যাটও কিনেছিলেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা৷ বান্ধবীর বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে মাঝে মধ্যে সেই ফ্ল্যাটে পার্টিও চলত৷
advertisement
আরও পড়ুন: খুনি কে, বাবা না কাকা? মুখ খুলল ট্যাংরার দে বাড়ির নাবালক, পুলিশের কাছে হাড় হিম করা বয়ান
এত কিছুর পরেও বান্ধবীর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন ওই পুলিশ আধিকারিক৷ এমন কি, বিয়ের জন্যও চাপ দিতে শুরু করেন বান্ধবী৷ ঘটনার দিন গত বুধবার বান্ধবীকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন জয়ন্তবাবু৷ কেনাকাটা, খাওয়া দাওয়ার পর আন্দুলের বাড়িতে বান্ধবীকে ছাড়তে যাচ্ছিলেন তিনি৷ তখনই ফের বিয়ের কথা তোলেন ওই তরুণী৷ এই নিয়ে দু জনের মধ্যে শুরু হয় বচসা৷
বান্ধবীকে চাপে ফেলতে আগে থেকেই থানায় বাজেয়াপ্ত হওয়া একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিজের সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন ওই পুলিশ আধিকারিক৷ তবে বুধবারের গন্ডগোল বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়৷ ওই তরুণী নিজের বন্ধুদেরও ফোন করে ডেকে নেন৷ এরই মধ্যে গাড়ি থেকে নেমে সেই আগ্নেয়াস্ত্র থেকেই নিজের হাতে গুলি করেন জয়ন্তবাবু৷ ওই পুলিশ আধিকারিক নিজের হাতে গুলি চালানোর পরই ঘটনাস্থলে হাজির হন তরুণীর বন্ধুরা৷ এর পর তাঁরা সবাই মিলে জয়ন্তবাবুকে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন৷
তবে জয়ন্তবাবু এমন ভাবে গুলি চালিয়েছিলেন যে গুলি তাঁর হাত ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়৷ আঘাত খুব গুরুতর না হওয়ায় আজই ওই পুলিশ আধিকারিককে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷ তবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও বড় শাস্তির মুখে পড়তে চলেছেন ওই পুলিশ আধিকারিক৷ ঘটনার দিনই তাঁকে চণ্ডীতলা থানার আইসি-র পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ থানা থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসা, তা থেকে গুলি চালানোর জন্য ওই পুলিশ আধিকারিককে গ্রেফতারও করা হতে পারে বলেই সূত্রের খবর৷
ইতিমধ্যেই পুলিশি তল্লাশিতে ঘটনাস্থলের কাছে ঝোপের ভিতর থেকে ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার হয়েছে৷ অপসারিত আইসি এবং তাঁর বান্ধবী যে গাড়িতে ছিলেন, তার ভিতর থেকে যৌন শক্তিবর্ধক ওষুধ, সেক্স টয় উদ্ধার হয়৷
