গ্রামের তাঁতিরা নিজেদের দক্ষতাকে নতুনভাবে তুলে ধরতে শুরু করেছেন। হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কাটিয়ে তাঁত আবার হয়ে উঠছে জীবিকার ভরসা। চন্দনপুর গ্রামের প্রায় দেড়’শ পরিবার সরাসরি তাঁত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। বছরের পর বছর ধরে তাঁতের কাজই তাদের প্রধান পেশা। কিন্তু মেশিনে তৈরি শাড়ির দাপটে একসময় এই শিল্প ধাক্কা খেয়েছিল। কাজ কমে যাচ্ছিল। আয় ছিল অনিশ্চিত।
advertisement
আরও পড়ুনঃ অতিরিক্ত ঠান্ডায় গর্ভবতী হনুমানের মৃত্যু! শ্রাদ্ধশান্তি, হরিনামের আয়োজন, শোকে বিহ্বল গোটা গ্রাম
অনেকেই পেশা বদলের কথা ভাবছিলেন। সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠেছিল। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারার যন্ত্রণা ছিল শিল্পীদের চোখেমুখে। তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে। নতুন উদ্যোগ আর পরিকল্পনায় আবার তাঁতের চাকা ঘুরছে নিয়মিত।
আরও পড়ুনঃ বছর শেষের রাতে পিকনিকে যুবককে পিটিয়ে খু*ন! পালিয়ে রেহাই নেই, পুলিশের জালে ২ অভিযুক্ত
এখন এই গ্রামের তাঁতিরা বাজারের ট্রেন্ড অনুযায়ী শাড়ি তৈরি করছেন। উৎসব, বিয়ে কিংবা নিত্য ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হচ্ছে শাড়ি। রঙ ও বুননে আনা হয়েছে আধুনিক ছোঁয়া। তবুও বজায় রাখা হয়েছে ঐতিহ্যের স্বাদ। এই ট্রেন্ডিং তাঁত শাড়ি সহজেই টক্কর দিচ্ছে মেশিনারি ও সিন্থেটিক শাড়িকে। শুধু রাজ্যের বাজার নয়, এই শাড়ি এবার এক্সপোর্টের পথেও হাঁটছে। তার জন্য সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে শিল্পীদের। সমিতির পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। বিপণন, প্যাকেজিং ও মানোন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
দামের দিকেও বিশেষ নজর রেখেছেন তাঁতিরা। সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই রাখা হয়েছে শাড়ির দাম। এখানে মাত্র ৫০০ টাকা থেকেই তাঁতের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। আবার উচ্চমানের ডিজাইনার শাড়িও রয়েছে। এতে সব শ্রেণির ক্রেতাই আকৃষ্ট হচ্ছেন। কাজ বাড়ায় খুশি শিল্পীরা। ঘরে ফিরছে স্বস্তি। মুখে ফিরছে হাসি। চন্দনপুরের তাঁতিপাড়ায় এখন আর হতাশার ছবি নেই। নতুন করে আশার আলো দেখছে এই গ্রামের প্রতিটি তাঁতি পরিবার।





