আধুনিক পদ্ধতিতে বেশি পরিমাণে মুড়ি তৈরি হতেই বেশ কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন মুড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা মালিক ও শ্রমিকরা । তবে উৎকৃষ্ট মুড়ি তৈরিতে বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় বলে মত মুড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা শ্রমিকরা । উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম বিধানসভার অন্তর্গত বারাসত ব্লক এক নম্বর পূর্ব খিলকাপুর পঞ্চায়েতের জয়পুর বেলতলা এলাকায় অধিকাংশ পরিবার এই মুড়ি শিল্পের সাথে জড়িত । এলাকায় তিনটি বড় কারখানাও রয়েছে । পুরনো পদ্ধতি অনুযায়ী বালিও রয়েছে, লবণও রয়েছে কিন্তু মুড়ি তৈরি করার উনুনের বদলে এখন বয়লার বা রোস্টার মেশিন এসেছে। সেখানে ঘন্টায় ১৮ থেকে ২০ বস্তা মুড়ি তৈরি করা যায়। মুড়ি তৈরির পদ্ধতি কিন্তু একই আছে।
advertisement
মুড়ি তৈরি করতে প্রথমেই প্রয়োজন হয় লবণ, তার পর চাল, এবং একই সঙ্গে বালির । চাল ভিজিয়ে লবণ মাখিয়ে তা শুকাতে হয় । সেই লবণ মাখা শুকানো চাল, রোস্টার মেশিনে বয়েল হওয়া গরম বালিতে দিয়ে মুড়ি তৈরির প্রক্রিয়া চলে । এই গোট প্রক্রিয়া হয়ে মুড়ি তৈরি হতে কেজিপ্রতি তিন থেকে সাড়ে তিনি টাকা খরচ হয় । এই ব্যবসায় ভাল-মন্দ বলে কিছু হয় না । সবসময়, সারা বছরই একইভাবে চলে । কোনও সময় অর্ডার বেশি থাকে, আবার কোনও সময় কম । তবে চাপ থাকে অধিকাংশ সময়েই । লকডাউনের সময়ে অন্যান্য ব্যবসা বন্ধ থাকলেও, মুড়ি ব্যবসায় কিন্তু কোন প্রভাব পড়েনি, কারণ যেহেতু খাদ্যদ্রব্য তাই এক্ষেত্রে সবসময় খোলা ছিল।
আরও পড়ুন : বর্ষায় চুলের সব সমস্যা নিমেষে দূর করে আপনার হেঁসেলের এই মশলা
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মুড়িকে রাখার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন অনেক পুষ্টিবিদরা । কারণ, চাল থেকে তৈরি হওয়া এই মুড়িতে শর্করা, প্রোটিন-সহ নানা খনিজ লবণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে যাঁদের ওজন বেশি, তাঁদের জন্য উত্তম খাবার হতে পারে মুড়ি। কারণ মুড়িতে ফ্যাট ও কোলেস্টেরল থাকে না বললেই চলে। সহজলভ্য ও সহজপাচ্য মুড়ির প্রচুর চাহিদা থাকায় মুড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা মানুষেরা তাই কিছুটা হলেও নিশ্চিন্তে থাকেন।
আরও পড়ুন : হেঁচকি বন্ধ করা থেকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ-আমপাতার এই গুণগুলো জানতেন?
তবে বর্তমানে অনেকেই মুড়ি শিল্পের প্রতি আগ্রহ দেখানোয় প্রতিযোগিতার বাজার তৈরি হয়েছে। ফলে আগের মতো করে লাভের পরিমাণ না হলেও বাজারে চাহিদা থাকায় সাচ্ছন্দেই চলছে মুড়িশিল্প।
(প্রতিবেদক - রুদ্র নারায়ণ রায়)





