অবাক করা ঘটনাটি নদিয়া জেলার বল্লভ পাড়া গ্রামের হালদারপাড়া এলাকার । নদিয়া জেলার বল্লভপাড়া গ্রামের হালদারপাড়াতে প্রায় ১০০ পরিবারের বসবাস, আর এই হালদার পাড়ার বাসিন্দাদেরই দেখা গেল নদী পেরিয়ে নৌকা করে নদিয়া ছেড়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে পানীয় জল সংগ্রহ করতে আসতে। তবে কেন এই আকাল পানীয় জলের? কেনই বা স্থানীয়রা তাদের নিজেদের এলাকায় ঠিকমত পানীয় জলও পাচ্ছেন না? এই জলযন্ত্রণা নিয়ে কি বা প্রতিক্রিয়া সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের?
advertisement
এই সমস্যা এই প্রসঙ্গে নদিয়া বল্লভপারার হালদার পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা ফুলকলি হালদার জানান , “আমাদের এখানে জলের প্রচন্ড প্রবলেম জলের জন্য আমাদের সাহাপাড়া যেতে হয়, হাটখোলা মোড় যেতে হয় অনেকটা দূরে থেকে জল আনতে হয়। জলের প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। ছেলে মেয়েদের জন্য জল আনতে যেতে হয়। এই পাড়ায় আমরা সবাই গরীব মানুষ কে কতক্ষন জল কিনে খেতে পারে। এখন চার পাঁচ দিন ধরে কাটোয়া বর্ধমান থেকে আমাদের জল নিয়ে আসতে হচ্ছে।”
আরও পড়ুন – বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ হচ্ছে আরও ঘনীভূত, দিঘায় সমুদ্রের দামাল উচ্ছ্বাস
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে আগে এই এলাকায় জল আসত। কিন্তু বিগত দু – তিন বছর ধরে নতুন পাইপ লাইন হওয়ার কারণে আর জল আসে না। গত দু-তিন বছর ধরে বল্লভপাড়া গ্রামের হালদার পাড়ার বাসিন্দারা পার্শ্ববর্তী সাহাপাড়া থেকে জল নিয়ে আসতেন। ঝড়, জল- বৃষ্টি মাথায় করে তাদের সাহাপাড়া থেকেই জল নিয়ে আনতে হত। কিন্তু বর্তমানে সাহাপাড়াতেও ঠিকমত মিলছে না পানীয় জল।
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, এখানে জল বিক্রি করতে আসে কিন্তু তাদের পক্ষে প্রতিদিন সেই জল কিনে খাওয়া সম্ভব হয় না। তাই বাধ্য হয়ে নৌকা করে বর্ধমানের কাটোয়া থেকে জল আনতে যেতে হয় তাদের। এই প্রসঙ্গে আর এক স্থানীয় বাসিন্দা মালতি হালদারের বক্তব্য, “আমাদের এখানে জলের খুব সমস্যা, দু তিন বছর ধরে সাহাপাড়া থেকে জল নিয়ে আসি । এখন চার পাঁচ দিন ধরে সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা এখন যায় গঙ্গার ওপার থেকে গিয়ে জল নিয়ে আসি। মাঝে মাঝে পাড়াতে জল এলে তখন কিনে নিই। গঙ্গার ওপারে ওটা কাটোয়া যাচ্ছি জল আনতে। নৌকা করে যেতে হয় । যাওয়া আসা নিয়ে পাঁচ টাকা করে ভাড়াও নেয়।”
ভাবলে অবাক হতে হয় পানীয় জল নিয়ে ঠিক কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি নদিয়া জেলার বল্লভপাড়া গ্রামের হালদার পাড়ার বাসিন্দাদের । শুধুমাত্র পানীয় জলের কারণে নিজের জেলা ছেড়ে পাড়ি দিতে হচ্ছে অন্য জেলায়। স্থানীয়দের কথায় পঞ্চায়েতে জানানো হয়েছে কিন্তু জল কবে আসবে তারাও এখন কিছু বলতে পারছেন না ।এই অবস্থায় বল্লভপারার শ-খানেক পরিবারের আর্জি একটাই, যত দ্রুত সম্ভব এই জলের সমস্যার সমাধান হোক। বন্ধ হোক জল পেরিয়ে জল আনতে যাওয়ার এই সফর।
Bonoarilal Chowdhury





