আসলে উত্তর প্রদেশের মুঘলসরাইয়ের নীরজ জয়সওয়াল ভারতীয় সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট পদে আসীন হয়েছেন। চেন্নাইয়ে অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষ করে নীরজ প্রথম বারের মতো মুঘলসরাইয়ের বাড়িতে ফিরলে স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তাঁর এই সাফল্যে সমগ্র এলাকায় যেন আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে।
advertisement
নীরজ জয়সওয়াল মুগলসরাইয়ের রাম মন্দির এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মনোজ জয়সওয়াল একজন ব্যবসায়ী। বাড়িতেই একটি দোকান রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে তাঁর মা একজন গৃহিণী। এহেন সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা নীরজ কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং দৃঢ়তার মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছেন।
অফিসার হওয়ার স্বপ্ন:
নীরজের বাবা মনোজ জয়সওয়াল বলেন, নীরজ শুরু থেকেই পড়াশোনার ক্ষেত্রে খুবই পরিশ্রমী। নিয়ম বেঁধে রীতিমতো পড়শোনা করতেন তিনি। মুঘলসরাইয়েই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন নীরজ। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার সময় তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি শুরু করেন।
বোর্ডের স্বীকৃতি:
নীরজ ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক পরিচালিত সম্মিলিত প্রতিরক্ষা পরিষেবা পরীক্ষায় (সিডিএস) প্রথম প্রচেষ্টাতেই উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি সার্ভিস সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সাক্ষাৎকারেও সফল ভাবে উত্তীর্ণ হন। জানা গিয়েছে যে, সাক্ষাৎকারের সময় বোর্ড তাঁর সম্ভাবনা, আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্বের গুণাবলীকে স্বীকৃতি দিয়েই তাঁকে বেছে নিয়েছিল। এরপর তাকে প্রশিক্ষণের জন্য চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতেও পাঠানো হয়।
লেফটেন্যান্ট পদে আসীন:
নীরজ Local 18-কে জানান যে, সিডিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাঁকে সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছিল, যেখানে তিনি প্রায় ১১ মাস ধরে কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ চলাকালীন তিনি সামরিক শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব দানের দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং বিভিন্ন সামরিক বিষয়ে কঠোর প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন। তাঁর প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে গত ৭ মার্চ। এরপর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট পদে যোগ দিয়েছেন।
সম্পূর্ণ কৃতিত্বই বাবা-মায়ের:
প্রশিক্ষণ সেরে বাড়ি ফেরার পর নীরজকে সাদরে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। পরিবার, বন্ধু এবং স্থানীয়রা প্রথমে তাঁকে মালা পরিয়ে দেন এবং তাঁর সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেন। নীরজ অবশ্য নিজের সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নিজের মা-বাবাকেই দিয়েছেন। নীরজের বক্তব্য, মা-বাবার সমর্থন এবং আত্মবিশ্বাস ছাড়া তিনি এই মাইলফলকে পৌঁছতে পারতেন না।
কঠোর পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই:
নীরজ জানান যে, প্রস্তুতির সময় তাঁকে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁকে বাবার দোকানেও সময় দিতে হত। যেহেতু তাঁদের মুদির দোকান ছিল, তাই তাঁকে প্রায়ই দোকানের দায়িত্ব নিতে হত। কিন্তু পড়াশোনার ব্যাপারে তিনি কখনও আপোস করেননি। যখনই সুযোগ পেতেন, তখনই পড়ার বই খুলে বসতেন, সেটা দুপুর হোক বা গভীর রাত।
তিনি বলেন যে, সাফল্যের জন্য ধারাবাহিক ভাবে কঠোর পরিশ্রম অপরিহার্য। কখনও কখনও প্রস্তুতির সময় পরিস্থিতি হতাশাজনক হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য স্থির থাকলে এবং কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে গেলে সাফল্য আসতে বাধ্য।
স্বপ্ন থাকলে স্বপ্নও সত্যি হয়:
তরুণ সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বার্তা দিতে গিয়ে নীরজ বলেন যে, সাহস, নিষ্ঠা এবং আবেগ থাকলে কোনও স্বপ্নই অসম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন যে, প্রস্তুতি গ্রহণের সময় ধৈর্য্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে প্রায়শই প্রতিকূলতা আসতে পারে। তবে যদি কেউ চেষ্টা চালিয়ে যান এবং নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকেন, তবে তিনি অবশ্যই সফল হবে।
গোটা চন্দৌলি জেলা গর্বিত:
শুধু নীরজের পরিবারই নয়, গোটা চন্দৌলি জেলা নীরজের এই সাফল্যে গর্বিত। তাঁর এই সাফল্য সেই সব তরুণ-তরুণীদের জন্য এক অনুপ্রেরণা, যাঁরা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করার স্বপ্ন দেখেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে নীরজের সেনা আধিকারিক হওয়ার সাফল্যের উপাখ্যান এটাই প্রমাণ করে যে, দৃঢ় সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যে কোনও লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব।
