TRENDING:

Knowledge Story: দেশের প্রথম জাতীয় বিদ্যালয় কোথায় গড়ে উঠেছিল জানেন? উত্তর জানলে আপনার নিজেরই গর্ব হবে

Last Updated:

Knowledge Story: এই বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি স্বাধীনতার ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার গর্ব এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আজও সেই সংগ্রামী অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
খেজুরি, মদন মাইতি: আমাদের চারপাশে অসংখ্য স্কুল-কলেজ গড়ে উঠেছে। নামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, কর্পোরেট প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান, বড় বড় ইঞ্জিয়ারিং কলেজ, শিক্ষার বিস্তার এখন সর্বত্র। কিন্তু, জানেন কি দেশের প্রথম জাতীয় বিদ্যালয় কোথায় স্থাপিত হয়েছিল? সেই গৌরবের দাবিদার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি। সমুদ্র উপকূলবর্তী এই অঞ্চল জন্মলগ্ন থেকেই বিদ্রোহ ও প্রতিবাদের জন্য পরিচিত।
advertisement

১৮০৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে লবন শ্রমিকদের বিদ্রোহ এখানেই সংঘটিত হয়। এরপর বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, বিলেতি বর্জন, লবণ সত্যাগ্রহ, অগাস্ট বিপ্লব, তেভাগা আন্দোলন—প্রতিটি সংগ্রামে খেজুরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এই অঞ্চলের নাম বারবার উঠে এসেছে। এখানে গড়ে উঠেছিল দেশের প্রথম জাতীয় বিদ্যালয়।

আরও পড়ুনঃ রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে সাবধান…! ‘এই’ ৭ খাবার ভুলেও খাবেন না, গিঁটে যন্ত্রণায় শরীর কাহিল হবে

advertisement

‘স্বাধীনতা সংগ্রামে মেদিনীপুর’ গ্রন্থে প্রাক্তন অধ্যক্ষ হরিপদ মাইতি উল্লেখ করেছেন, ১৯২১ সালে খেজুরির কলাগেছিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় বঙ্গদেশের প্রথম জাতীয় বিদ্যালয়। সে সময় মহাত্মা গান্ধির বিদেশি বর্জন আন্দোলনে উত্তাল ছিল দেশ। খেজুরিতেও ছাত্রছাত্রীরা ব্রিটিশ অনুমোদিত স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে আসে। সরকারি চাকরি ত্যাগ করেন নিকুঞ্জবিহারী মাইতি। আইন ব্যবসা ছেড়ে আন্দোলনে যোগ দেন দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল। কলাগেছিয়া গ্রামের জমিদার জগদীশচন্দ্র মাইতির উদ্যোগে ১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়কে নতুন রূপ দেওয়া হয়। ১৯২১ সালের ১ মার্চ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল সেটিকে দেশের প্রথম জাতীয় বিদ্যালয় হিসেবে উদ্বোধন করেন। বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক হন বিপ্লবী নিকুঞ্জবিহারী মাইতি।

advertisement

আরও পড়ুনঃ অন্ধকারে সমুদ্রের জলে আলো জ্বলে! ভারতের এই ‘৭’ সৈকত রাতে ছবির চেয়েও সুন্দর, ছবি দেখে প্ল্যান করে ফেলুন

বর্তমান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিহির কুমার প্রধান জানান, এই প্রতিষ্ঠানের শিকড় আরও গভীরে প্রোথিত। ১৮৪৫ সালে শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে এখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়। পরে ১৮৮৬ সালে সেটি মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়ে পরিণত হয়। সময়ের সঙ্গে বহু পরিবর্তন আসে।১৯২০ সালে বোম্বে কংগ্রেস অধিবেশনে গান্ধিজি জাতীয় বিদ্যালয় গঠনের আহ্বান জানান। তিনি ইংরেজি শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প গড়ে তুলতে বলেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক আলোচনা সভা হয়। বিদেশি প্রভাবমুক্ত শিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা পায় এই জাতীয় বিদ্যালয়।

advertisement

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
কফি কাপে চুমুক আর তুলির টানের মায়াবী জগৎ, বর্ধমানে শিল্পের আঙিনা ‘ক্যাফেলেরি’
আরও দেখুন

১৯২১ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়টি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। জাতীয় চেতনা ও স্বদেশি আদর্শ ছিল মূল ভিত্তি। প্রতিষ্ঠাতা জগদীশচন্দ্র মাইতিকে সম্মান জানাতে তাঁর দেহ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনেই দাহ করা হয়। এই বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি স্বাধীনতার ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার গর্ব এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আজও সেই সংগ্রামী অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। খেজুরির মাটি আজও বহন করে বিদ্রোহ ও আত্মত্যাগের ইতিহাস।‌

advertisement

বাংলা খবর/ খবর/পাঁচমিশালি/
Knowledge Story: দেশের প্রথম জাতীয় বিদ্যালয় কোথায় গড়ে উঠেছিল জানেন? উত্তর জানলে আপনার নিজেরই গর্ব হবে
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল