অননুমোদিত চেন টানা রেলের শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা এবং পরিবহণ নেটওয়ার্কের জন্য একটি লজিস্টিক বিপর্যয়। যখন একজন যাত্রী বৈধ জরুরি অবস্থা—যেমন আগুন, চিকিৎসা সঙ্কট বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া—ছাড়াই চেন টানেন, তখন ট্রেনের ভ্যাকুয়াম ব্রেক সক্রিয় হয় এবং বিশাল ট্রেনটি মাঝপথে থমকে যায়। এটি কেবল একটি ট্রেনেরই দেরি করায় না; এটি পুরো ডিভিশন জুড়ে একটি বিশাল ‘ক্যাসকেডিং এফেক্ট’ বা ক্রমিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সেই একটি দাঁড়িয়ে পড়া ট্রেনের পিছনে এক্সপ্রেস, মালগাড়ি এবং শহরতলির লোকাল-সহ ডজন খানেক ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়তে বা গতি কমাতে বাধ্য হয়। হাজার হাজার অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী এবং রোগী তাঁদের মূল্যবান সময় হারান শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির ব্যাগ ভুলে যাওয়া বা বন্ধুর দেরি করে আসার কারণে। এই বেপরোয়া আচরণ পূর্ব রেলের সামগ্রিক সময়ানুবর্তিতাকে বিঘ্নিত করে এবং হাজার হাজার নির্দোষ যাত্রীর মানসিক ও শারীরিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
advertisement
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন যে, তুচ্ছ কারণে অ্যালার্ম চেন টানা কেবল একটি ব্যক্তিগত ভুল নয়, বরং এটি একটি গুরুতর অপরাধ যা পুরো রেল নেটওয়ার্কের সময়ানুবর্তিতাকে বিপন্ন করে এবং হাজার হাজার সহযাত্রীর অসুবিধা সৃষ্টি করে। এই সংক্রান্ত আইন অত্যন্ত কঠোর এবং আপোসহীন। রেলওয়ে আইনের ১৪১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত এবং পর্যাপ্ত কারণ ছাড়া কোনও ব্যক্তি অ্যালার্ম চেন টানলে তাঁর এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে। ২০২৪-২৫ সময়কালে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে, যেখানে ৪৩৯৪টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং ৪১৭২ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ধরনের অপরাধীদের কাছ থেকে মোট ১৯,৬৪,৫৯১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পূর্ব রেল সমস্ত যাত্রীদের কাছে আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছে যে তাঁরা যেন জনসম্পত্তি এবং সহযাত্রীদের সময়ের মূল্য দেন। অনুগ্রহ করে স্টেশনে আগে পৌঁছান এবং ট্রেনে ওঠার আগে আপনার জিনিসপত্র পরীক্ষা করে নিন। অ্যালার্ম চেন একটি জীবনদায়ী সরঞ্জাম, আপনার সুবিধার স্যুইচ নয়। মুহূর্তের বিচারবুদ্ধিহীন কাজ যেন আপনার জীবনে স্থায়ী অপরাধের রেকর্ড না আনে এবং একটি সুন্দর যাত্রাকে নষ্ট না করে।
