গল্পের প্রথমেই রয়েছে দু’টি ঘটনা। আপাতদৃষ্টিতে এই ঘটনা দু’টিকে বিচ্ছিন্ন বলেই মনে হবে। এর মধ্যে একটি হল – রঘু পাসওয়ান নামে এক পরিযায়ী শ্রমিকের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া। আর অন্য ঘটনাটিতে দেখা যায়, দিল্লির হোটেলে নৃশংস ভাবে মাথা কেটে খুন করা হয়েছে বিতর্কিত নাগা রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসা জোনাথন টম। প্রাথমিক তদন্তে সহজ-সাপ্টা মনে হলেও ধীরে ধীরে দেখা যায়, সেটা ষড়যন্ত্রের গোলকধাঁধায় পরিণত হয়েছে। যার জেরে হাতিরাম চৌধুরী এবং ইমরান আনসারিকে পাড়ি দিয়ে হয়েছে নাগাল্যান্ডে। প্রতিকূল এই অঞ্চলে প্রত্যেকটি পদক্ষেপ যেন বুঝে-শুনে গ্রহণ করতে হয়। আর এই সমস্ত ঘটনাই স্পষ্ট ভাবে ফুটে ওঠে এই আখ্যানের মধ্যে।
advertisement
মাদক সংক্রান্ত সমস্যা, দুর্নীতি, গোষ্ঠী সংঘর্ষ এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার জটিল চিত্র প্রকাশ্যে আসে।
এই সিজনে আরও দু’টি নতুন চরিত্রের প্রবেশ ঘটেছে। এর মধ্যে একজন হলেন মেঘনা বরুয়া। অভিনেত্রী তিলোত্তমা সোম অভিনীত এই চরিত্রটি একটি সিঙ্গেল মাদারের। সেই সঙ্গে নাগাল্যান্ডের এসপি-র দায়িত্বও তাঁর কাঁধে। আর অন্য চরিত্রটি হল রোজি লিজো। ইনি আসলে জোনাথন টমের মাদকাসক্ত সঙ্গিনী। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেরেনলা ইমসং।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে গিয়ে মৃত ১২ ভারতীয়, নিখোঁজ ১৬ জন! জানাল বিদেশমন্ত্রক
এক্ষেত্রে আলাদা করে বলে দিতে হয় না যে, সব কিছুর কেন্দ্রে রয়েছেন জয়দীপ অহলাওয়াত। হাতিরাম চরিত্রে তিনি সত্যিই অতুলনীয়। এই চরিত্রটির ক্লান্তি, হতাশা এবং অধ্যবসায়কে সাবলীল ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন জয়দীপ। যা দর্শকদের মনে গভীর ছাপ রেখেছে। অন্যদিকে ইমরান আনসারি হিসেবে ঈশ্বক সিংও দুর্ধর্ষ। নিজের চরিত্রটির একাধিক স্তর দারুণ ভাবে জীবন্ত করেছেন তিনি।
একই ভাবে দুর্ধর্ষ অভিনয় করেছেন পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। তিলোত্তমা সোমের মেঘনা বরুয়া তো অসাধারণ বললেও কম বলা হবে। আবার মেলেনলা ইমসংয়ের রোজি লিজোও দর্শকদের মনে একটা চিরকালীন ছাপ রেখে গিয়েছেন। এমনকী ছোটখাটো চরিত্রগুলির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য গভীরতা দেখা গিয়েছে। যেমন – ড্যানিয়েল-রূপী প্রশান্ত তামাঙ্গ, সিলাস চরিত্রে অ্যারিয়েন্সা লঙ্গচার, বিট্টু রহমান-রূপী প্রতীক পচৌরি, গ্রেস রেড্ডি চরিত্রে থেয়ি কেদিতসু, এসএইচও ভির্ক হিসেবে অনুরাগ অরোরা, কনস্টেবল মঞ্জু ভার্মা হিসেবে নিকিতা গ্রোভার, গুড্ডু পাসওয়ান হিসেবে রকিবুল হোসেইন, রিউবেন টম হিসেবে এলসি সেখোজ, আইজ্যাক হিসেবে বেনডাং ওয়ালিং অথবা সতবীর ব্রার হিসেবে পালি সান্ধুর কথা না বললেই নয়!
দৃশ্যপটের দিক থেকে ‘পাতাললোক সিজন ২’-কে সফলও বলা চলে। অসাধারণ এই সিজনের সিনেম্যাটোগ্রাফি। আর চিত্রনাট্য থেকে শুরু করে সংলাপ – সমস্তটাই দুর্দান্ত। যা শেষ পর্যন্ত টানটান রোমাঞ্চ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। একাধিক বলিষ্ঠ বিষয় থাকা সত্ত্বেও ‘পাতাললোক সিজন ২’-কে একেবারে নির্ভুল বলা যায় না। সিজন ১-এর কিংবদন্তি সেই খলনায়ক ত্যাগীকে দেখা যায়নি এই সিজনে। যার ফলে একটা বড়সড় শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে। সর্বোপরি এটাই বলা যেতে পারে যে, ‘পাতাললোক সিজন ২’ আসলেই তার যুগান্তকারী পূর্বসূরির একেবারে যোগ্য উত্তরসূরি!
