এরপর তাকে মাটিগাড়ার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। রাজ্য সরকারের তরফে ২০২৯ সালে বঙ্গরত্ন এবং ২০২১ সালে ক্রীড়া দফতরের তরফে ‘ক্রীড়া গুরু’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল তাঁকে। প্রশিক্ষকের ডিগ্রি না থাকলেও ভারতী ঘোষ শুধু উত্তরের নন, রাজ্যের অন্যতম সেরা টেবিল টেনিস কোচ ছিলেন তিনি। হাতেগোনা কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে টেবিল টেনিস খেলা শুরু করেছিলেন৷ কোনও কোচ ছাড়াই শুরু হয় প্রশিক্ষণ ৷ সিনিয়রদের খেলা দেখে শিখেছিলেন ৷ এরপর মহাবীরস্থানের একটি কোচিং ক্যাম্পে ভরতি হন। খুব অল্প সময়ে খেলাটিকে আয়ত্ত করে ফেলেছিলেন ভারতী ঘোষ।
advertisement
প্রশিক্ষণের ভাবনা শুরু তখন থেকেই ৷ তবে মাথায় ছিল ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের খেলা শেখানোর কথা। নিজেই শুরু করেন টেবিল টেনিসের প্রশিক্ষণ দেওয়া। শিলিগুড়ি তো বটেই দার্জিলিং, জলপাইগুড়িতে শিশুদের টেবিল টেনিসের প্রশিক্ষণ দিতেন। বেতন দিতে অসমর্থ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিনামূল্যে কোচিং করাতেন৷ প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়রাও তাঁর কাছে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ পেয়েছে ৷ এভাবেই কাটিয়ে দিয়েছিলেন টানা ৫০টা বছর।
দেশবন্ধু পাড়ায় একটি ছোট্ট ঘরে থাকতেন ৷ নিজেই রান্না করতেন ৷ একা হাতে সব কাজ সামলে কোচিংয়ের জন্য সময়মতো পৌঁছে যেতেন। ভারতী ঘোষের হাতে তৈরি হয়েছে অন্তত তিন হাজার টেবিল টেনিস খেলোয়াড়। রাজ্য তো বটেই এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিনিধিত্ব করেছে অনেক ছাত্রছাত্রী। এই প্রসঙ্গে অর্জুন মান্তু ঘোষ বলেন,”ভারতী দির প্রয়ান ক্রীড়াজগতের এক বিশাল ক্ষতি। তার প্রশিক্ষণে অনেক তাবর তাবির টেবিল টেনিস খেলোয়াড় উঠে এসেছে।”
সুজয় ঘোষ






