উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব শহরের নাট্যপ্রেমীদের ভূমিকাকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, মঞ্চে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি দর্শকাসনে বসে থাকা দর্শকরাই প্রকৃত সম্মানীয়। নাটকের প্রাণশক্তি দর্শকের সক্রিয় অংশগ্রহণেই গড়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান সময়ে মানুষের একাকিত্ব বেড়ে চলেছে। এই সামাজিক প্রেক্ষাপটে নাটক মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ গড়ে তোলার এক শক্তিশালী মাধ্যম বলেও উল্লেখ করেন মেয়র।
advertisement
আরও পড়ুন: স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতি বুকে নিয়ে কাঁথিতে শুরু ঐতিহ্যের মেলা, বছরের শুরুতেই ১২ দিনের উৎসব
নাট্যমেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক অশোক ভট্টাচার্য জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্যই ছিল নাটকের দর্শকসংখ্যা বাড়ানো। তাঁর মতে, বর্তমানে শিলিগুড়িতে নাটক দেখতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তা নাট্যমেলার সাফল্যেরই প্রতিফলন। বিপুল দর্শক উপস্থিতির মধ্য দিয়ে নাট্যমেলা আরও উচ্চতায় পৌঁছক, এই আশাও ব্যক্ত করেন তিনি। নাট্যমেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক পল্লব বসু বলেন, শহরের নাট্যচর্চাকে আরও বিস্তৃত ও প্রাণবন্ত করতেই এই মেলার আয়োজন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাট্যমেলা কমিটির সভাপতি ড. তপন চট্টোপাধ্যায়, যুগ্ম সম্পাদক পল্লব বসু, জয়দীপ বড়াল, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. শেখর চক্রবর্তী সহ বহু নাট্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
নাট্যপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। উদ্বোধনের দিনেই বিশেষ আকর্ষণ ছিল সঙ্গীত পরিবেশন। নাটকের গানে কণ্ঠ দেন স্বয়ং সুমন মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন পল্লব বসু এবং শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ড. তপন চট্টোপাধ্যায়। নাট্যমেলার প্রথম দিনেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিসর্জন’ অবলম্বনে শিলিগুড়ি নাট্যমেলা সমন্বয় প্রযোজিত নাটক ‘দেবীপক্ষ’ মঞ্চস্থ হয়। অমিতাভ কাঞ্জিলাল-এর সম্পাদনা ও নির্দেশনায় এই প্রযোজনায় প্রথম দিনেই দর্শকাসনে উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আগামী ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই নাট্যমেলা। এই সময়ে সুমন মুখোপাধ্যায়ের অংশগ্রহণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নাটক মঞ্চস্থ হবে এবং ওই দিনই নাট্যমেলার সমাপ্তি ঘটবে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও নাট্যমেলার মঞ্চে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে। শিলিগুড়ির বর্ষীয়ান নাট্যব্যক্তিত্ব শ্যামাপ্রদাস মজুমদারকে দেওয়া হবে শিলিগুড়ি নাট্যমেলা ২০২৬ সম্মাননা। পাশাপাশি, বিশিষ্ট বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাশ্বতী সেনকে প্রদান করা হবে রত্না ভট্টাচার্য স্মৃতি পুরস্কার। ৭ জানুয়ারি নাট্যমেলা চলাকালীনই এই সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হবে। সব মিলিয়ে, নাটকের আলোয় আবারও প্রাণ ফিরে পেল শিলিগুড়ি। যেখানে মঞ্চ, অভিনেতা ও দর্শক মিলেই গড়ে তুলছে এক যৌথ সাংস্কৃতিক উৎসব।





