এই ট্র্যাপ ক্যামেরাগুলো ইনফ্রা রেড ও হোয়াইট ফ্ল্যাশ যুক্ত ট্র্যাপ ক্যামেরা। হোয়াইট ফ্ল্যাশের মাধ্যমে কম আলোতেও বন্য প্রাণীদের রঙিন ছবি তুলে ফেলতে সক্ষম হয় এই সব ক্যামেরা। আবার ইনফ্রা রেড ফ্ল্যাশের মাধ্যমে কম আলোতেও রাতের বেলা একেবারে ঝকঝকে ছবি তোলে এই ক্যামেরা। ভিডিও ও স্টিল দুই ধরনের ছবি তুলতেই সক্ষম এই সব ক্যামেরা। ২১৬ বর্গ কিলোমিটার জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে ২১০ টি এই জাতীয় ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ক্যামেরাগুলো এমন জায়গায় বসানো হয়েছে যাতে ছোট থেকে বড় সব ধরনের বুনো জন্তুর ছবি ক্যামেরা বন্দি হয়।
advertisement
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের এ ডি এফ ও নবীকান্ত ঝা বলেন, “ ২ বর্গকিলোমিটার এক একটি এলাকাকে আমরা একটি গ্রিডে ভাগ করেছি। এইভাবে গোটা জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানকে ১০৫ টি গ্রিডে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক গ্রিডে দুটো করে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরার সাহায্যে আমরা বিভিন্ন বুনো জন্তুর সংখ্যা জীবন যাপন সম্পর্কে নানান তথ্য তালাশ করব আমরা।”জানা গিয়েছে এই ক্যামেরা ধরা পড়া তথ্য থেকে কোন কোন বুনো জন্তু কোন এলাকায় কত সংখ্যায় আছে তা জানা যাবে।
এছাড়া কোন বন্যপ্রাণী কিভাবে কখন চলাফেরা করে, তাদের জীবন ধারনের রীতি নীতি সম্পর্কেও জানতে পারবে জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ। এই সব ক্যামেরায় প্রাপ্ত তথ্য থেকে বন্য প্রাণ রক্ষায় কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে, কোথায় কখন কোন ধরনের বন্য প্রাণীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিভাবে সুনিশ্চিত করতে হবে তাও জানা যাবে। এছাড়া বন্য প্রাণীদের সংখ্যা বৃদ্ধি বা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সহ নানান ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের এই ভুমিকাকে প্রশংসা করেছেন পরিবেশ প্রেমীরা।
আলিপুরদুয়ার নেচার ক্লাবের সম্পাদক ত্রিদিবেশ তালুকদার বলেন, “ জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ বন্যপ্রাণী রক্ষায় একটি যুগান্তকারি পদক্ষেপ নিল। বর্তমান সময়ে এই ডবল ভিউ ক্যামেরা বন্য প্রাণীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী ম্যানেজমেন্টের কাজ আরও সহজ হবে। আমরা বন দফতরের এই কাজের প্রশংসা করছি। ”
Rajkumar Karmakar
