অস্বাভাবিক শব্দ শুনে বাড়ির মালিক প্রথমে বিষয়টি টের পান। টর্চের আলো ফেলতেই দেখা যায় বাদামি-হলদেটে গায়ের নকশা-ওয়ালা একটি ছোট্ট ছানা। মুহূর্তের মধ্যে গ্রামবাসীদের মনে সন্দেহ—এ কী লেপার্ডের বাচ্চা নাকি! খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তৈরি হয় আতঙ্ক। কেউ বাড়ির জানলা বন্ধ করেন, কেউ আবার দূর থেকে মোবাইলে ছবি তুলতে শুরু করেন।
advertisement
আরও পড়ুন: মর্জি মতো স্কুলে আসেন শিক্ষিকারা, স্কুল চালাচ্ছে পড়ুয়ারাই! মিড ডে মিলেও বেনিয়ম, বেনজির দৃশ্য মালদহে
গ্রামবাসীদের একাংশ প্রাণীটিকে বাড়ি থেকে বের করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ছানাটি এক ইঞ্চিও নড়ছিল না। বরং ঠাণ্ডায় আরও গুটিয়ে নিয়ে নিশ্চুপ হয়ে বসে ছিল। তার এই আচরণে ভীতির মাত্রা আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত বন দফতর ও পরিবেশকর্মীদের খবর দেওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর বিশেষ জাল ব্যবহার করে সাবধানে ছোট্ট প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার পর্ব চলাকালীন গ্রামবাসীর চোখে তখনও দুশ্চিন্তার ছাপ।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তবে বনকর্মীদের এক ঘোষণাতেই গ্রামবাসীদের বুক থেকে নেমে যায় ভয়ের পাহাড়। তারা জানান, ওই প্রাণীটি মোটেও লেপার্ডের ছানা নয়, এটি আসলে একটি বন বিড়ালের বাচ্চা। লেপার্ডের মতো গায়ের নকশা থাকায় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। বন বিড়াল সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না এবং এরা অনেকটাই লাজুক প্রকৃতির। বর্তমানে ছানাটি বন দফতরের হেফাজতে রয়েছে। তাকে উষ্ণতা, খাবার এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছে। কর্তারা জানিয়েছেন, শরীর পুরোপুরি সুস্থ থাকলে খুব শিগগিরই তাকে নিরাপদে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ ঘটনাকে ঘিরে প্রথমে আতঙ্ক ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত স্বস্তির হাসি ফুটেছে গ্রামবাসীর মুখে। ছোট্ট প্রাণীটিকে নিরাপদে উদ্ধার হওয়াই এখন তাদের কাছে বড় তৃপ্তির বিষয়!





