অসম ও সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেল পরিকাঠামোয় অভূতপূর্ব উন্নয়ন পরিলক্ষিত হচ্ছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে প্রায় ৭২,৪৬৮ কোটি টাকা মূল্যের রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন রেললাইনের সমীক্ষা চালানো হচ্ছে এবং কোকরাঝাড় থেকে ভুটানের গেলেফু পর্যন্ত ৬৯ কিলোমিটার রেল সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
মণিপুরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রেল প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে সিকিম ও নাগাল্যান্ডে রেল সংযোগের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে, যার ফলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হচ্ছে।
advertisement
অসমের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ অসম ও পশ্চিমবঙ্গকে সংযুক্ত করে কামাখ্যা–হাওড়া রুটে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু হয়। এর পরদিনই অসমের প্রথম অমৃত ভারত এক্সপ্রেস—গুয়াহাটি (কামাখ্যা)–রোহতক এবং ডিব্রুগড়–লক্ষ্ণৌ (গোমতী নগর) রুটে যাত্রা শুরু করে। এই দুই পরিষেবার শুভ উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর ফলে অসম, পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের মধ্যে দীর্ঘ দূরত্বের রেল যোগাযোগ আরও মজবুত হয়েছে।
এছাড়াও পাটনা–বারাণসী–শিলিগুড়ি বুলেট ট্রেন করিডোরের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্ব ভারত প্রথমবারের মতো হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত হবে।
আরও পড়ুন: নির্বিঘ্নেই দ্বিতীয় দিনের মাধ্যমিক! একাধিক স্কুল পরিদর্শন করলেন পর্ষদ সভাপতি
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অধীনে রেল নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ ও বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ২০১৪ সালের পর থেকে প্রায় ১,৯০০ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মিত হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি রাজ্যে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিকীকরণ সম্পন্ন হয়েছে। অসমে বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ প্রায় ৯৮ শতাংশ শেষ, এবং গোটা অঞ্চলে মোট ২,৮৩৯ কিলোমিটার রেলপথ বৈদ্যুতিকীকরণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫০২টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১,১৯৭ কিলোমিটার রেলপথে ‘কবচ’ সুরক্ষা ব্যবস্থা অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে ২৩৫ কিলোমিটারের কাজ ইতিমধ্যেই অগ্রগতির পথে। রেললাইনে হাতির মৃত্যু রোধে এআই-ভিত্তিক ক্যামেরা সিস্টেম এবং উন্নত ইন্ট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম (IDS) আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
২০১৪ সালের তুলনায় বর্তমানে রেল খাতে বিনিয়োগ প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভারতীয় রেল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, বাণিজ্য ও পর্যটনকে উৎসাহিত করছে এবং অসম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্থায়ী রেল উন্নয়নের এক নতুন যুগের সূচনা করছে। সম্প্রসারিত এই রেল নেটওয়ার্ক ভারত সরকারের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
