স্থানীয় বাসিন্দারা এদিন ভোর সাতটা নাগাদ বনদফতরের পাতা খাঁচার সামনে গিয়ে দেখতে পান, খাঁচার ভিতরে একটি চিতাবাঘ আটকে রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে বহু মানুষ সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন। পরে স্থানীয়রাই বিষয়টি বিন্নাগুড়ি বনদফতরের কর্মীদের জানান। খবর পেয়ে বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিতাবাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
advertisement
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে খুটাবাড়ি এলাকা থেকেই চিতাবাঘের আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই বনদফতর এলাকাজুড়ে, বিশেষ করে বিভিন্ন চা বাগান ও সংলগ্ন এলাকায়, চিতাবাঘ ধরার জন্য একাধিক খাঁচা পেতে রাখে। অবশেষে সেই খাঁচাতেই চিতাবাঘ ধরা পড়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উত্তরবঙ্গে ধরা পড় চিতা, তবে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে প্রতিমুহূর্তে ওত পেতে থাকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনে পা রাখা মানে মৃত্যুর জঙ্গলে পা রাখা। সুন্দরবনে প্রবেশ করা এলাকাবাসীদের নজরে রাখে ডোরাকাটার চোখ। সুযোগ পেলেই আক্রমণ। ডোরাকাটার আক্রমণের হাত থেকে প্রাণে বাঁচার সংখ্যা অনেকটাই কম। কিন্তু যারা প্রাণে বেঁচেছে তারা আর স্বাভাবিক জীবন যাপনের মধ্যে ফিরে আসতে পারেনি। সুন্দরবন মানেই বিপদ। ওলিতে গলিতে বিপদ লুকিয়ে রয়েছে। কিন্তু বিপদ জেনেও প্রতিদিন সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে জীবন জীবিকার টানে এলাকাবাসীরা জঙ্গলে যায়। মূলত সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকার মানুষদের জীবন জীবিকার অন্যতম মাধ্যম হল জঙ্গল থেকে মধু সংগ্রহ করা এবং সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা। এভাবেই জীবন যুদ্ধে প্রতিদিন সাক্ষাৎ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালায় সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকার মানুষেরা।
রকি চৌধূরী, বানারহাট
