আলিপুরদুয়ার: একুশের নির্বাচনে আলিপুরদুয়ারের ৫টি আসনেই হেরেছিল তৃণমূল৷ এবার সেই আলিপুরদুয়ারকে বিজেপি’র হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়াই যেন চ্যালেঞ্জ তৃণমূলকের৷ গত বৃহস্পতিবার কর্মভূমি দক্ষিণ ২৪ পরগণা থেকে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছিলেন অভিষেক৷ প্রচারের দ্বিতীয় দিনেই তিনি গেলেন বিজেপির খাস জমি আলিপুরদুয়ারে৷ আর ছুঁড়লেন চ্যালেঞ্জ৷ সাধারণ মানুষের সামনে রাখলেন আর্জি৷ বললেন, ‘‘বিজেপি-কে উচিত শিক্ষা দিতে হবে৷ আর উচিত শিক্ষা দিতে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে লাইে দাঁড়াতে হবে৷’’
advertisement
এদিন তাঁর বক্তব্যের অধিকাংশই হিন্দি ভাষায় বলেন অভিষেক৷ আলিপুরদুয়ারেও তাঁর বক্তব্যের ছত্রে ছত্রে ছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের করা বঞ্চনার প্রসঙ্গ৷
অভিষেক বলেন, ‘‘ধরুন, দুটো মডেল। তৃণমূল এবং বিজেপি। তৃণমূলের মডেল হল, যদি আপনারা না-ও জেতান, তাদের যা কাজ করে যাবে। উন্নয়ন থমকে থাকবে না। কিন্তু বিজেপি? উন্নয়ন থামিয়ে দেবে। ২০২১-এর নির্বাচনে হারের পর বিজেপি বাংলার সঙ্গে বঞ্চনা করছে। ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা আলিপুরে গত বিধানসভায় ৫টি আসনেই হেরেছি, কিন্তু একজন মা, বোন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পায়নি, দেখান আমাকে। কিন্তু বিজেপি হারার পর সব প্রকল্পের টাকা আটকে দিয়েছে। এটাই ওদের সঙ্গে আমাদের ফারাক। ১৬-এর নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন চা বাগান খুলবে, ১০ বছরে খোলা দূরে থাক চা বাগানে নোটিশ পর্যন্ত পায়নি।’’
এরপরেই বিজেপি’র দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অভিষেক বলেন, ‘‘বিজেপি নিজেকে একগুয়ে বলে৷ আমি বিজেপির চেয়ে ১০ গুণ বেশি৷ আসন্ন নির্বাচনে, ইভিএমের মাধ্যমে তাদের উচিত শিক্ষা দিতে লাইনে দাঁড়ান। যারা সংবিধান পরিবর্তন করতে চায়, শেষ পর্যন্ত তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’’
এরপরেই আলিপুরদুয়ারের মানুষের সামনে নিজের আবেদন রাখেন অভিষেক৷ বলেন, ‘‘ইডি, সিবিআই, সিআরপিএফ, জুডিশিয়ারি, ইনকাম ট্যাক্স যা খুশি লাগাও। জিতবে বাংলাই।এই জয়ে আলিপুরদুয়ারকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। পাঁচ আসনেই জিততে হবে। এই জায়গা মহকুমা ছিল তাকে জেলা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। এটা সম্ভব করতে হবে। বাংলাকে জেতাতে হবে। তৃণমূল থাকলে বিরোধীরা কুপোকাত, ঘরে ঘরে দু মুঠো ভাত। কী চান তা আপনাদের বেছে নিতে হবে।’’
অভিষেকের মন্তব্য, ‘‘এ বার জয়ে আলিপুরদুয়ারকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। পাঁচে পাঁচ করতে হবে। আলিপুরদুয়ারের প্রতিদানের সময় এ বার। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে আনম্যাপ করে দিন। এ বার আলিপুরদুয়ারকে কথা দিতে হবে। এ বার সাড়ে চারশো বুথেই তৃণমূলকে জেতাতে হবে। তবেই বিজেপিকে শিক্ষা দিতে পারবেন। একটা বুথও ছাড়লে চলবে না।’’
