ঝাজ্জর পুলিশ কমিশনার রাজশ্রী সিং জানিয়েছেন, নির্যাতিতা উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা৷ চাকরির খোঁজে তিনি তাঁর কাকার কাছে বাহাদুরগড়ে এসেছিলেন। পুলিশে দেওয়া তাঁর বিবৃতি অনুযায়ী, নির্যাতিতা ১২ জানুয়ারি রাত প্রায় ২টো নাগাদ তাঁরা দিল্লি মেট্রোর গ্রিন লাইনের পণ্ডিত শ্রী রাম শর্মা মেট্রো স্টেশনে বাস থেকে নামেন৷ নির্যাতিতাকে তাঁর আত্মীয়রা নিতে এসে দেখেন পাঁচজন মিলে তাঁকে অনুসরণ করছেন৷
advertisement
কিছুক্ষণ পর অভিযুক্তরা কাকা ও আরও এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ওই নারীকে আলাদা করে নিয়ে যায় এবং মেট্রো স্টেশন থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে দিল্লি-রোহতক রোডের পাশে একটি পরিত্যক্ত ধাবায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ৷ ঘটনার পর পরিবারটি পুলিশের কাছে যায় এবং বাহাদুরগড়ের সিটি থানায় একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ওই নারী পুলিশকে জানান যে তাঁর কিছু জিনিসপত্র চুরি হয়েছে এবং তিনি যৌন নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেননি। তবে পরে তদন্তকারীরা ধাবার একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর) উদ্ধার করেন, যেখানে যৌন নির্যাতনের দৃশ্য ধরা পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, “তিনি পরে বিস্তারিত বিবৃতি দিতে সম্মত হন এবং তাঁর কাকা পরবর্তীতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।” তদন্তে পুলিশ জানায়, হামলার কিছুক্ষণ আগে অভিযুক্তরা কাছাকাছি একটি দোকান থেকে মদ কিনেছিল। তারা ১০০ টাকা নগদ এবং বাকি ৩০ টাকা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে। এই ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরেই পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (সিআইএ) দল ধাবা ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের গতিবিধি অনুসরণ করে। অপরাধের আট ঘণ্টার মধ্যেই বাহাদুরগড়ের চোটু রামনগর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকা, বিহার থেকে আসা চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পঞ্চম অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে।
কমিশনার সিং জানান, নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনও অপরাধীকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
