এই পরিস্থিতিতে যে কোনও বাবা-মা-ই হয়তো শোকে পাথর হয়ে যাবেন৷ দশ মাসের মেয়ের মস্তিষ্কের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা ঘোষণা করার পর সেরকমই অবস্থা হয়েছিল অরুণ আব্রাহাম এবং শিরিন আন জনের৷ কিন্তু সন্তান হারানোর সেই যন্ত্রণার মধ্যেও তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার জন্য কেরলের ওই দম্পতিকে কুর্নিশ করছে গোটা দেশ৷
দশ মাসের মেয়েকে চিকিৎসকরা ব্রেন ডেড বলে ঘোষণা করার পর নিজেদের একরক্তি মেয়ের অঙ্গ দান করার সিদ্ধান্ত নেন অরুণ এবং শিরিন৷ ওই দম্পতির পরিবারও তাঁদের এই সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়ায়৷
advertisement
দশ মাসের অ্যালিন শিরিন আব্রাহামের লিভার, কিডনি, হার্ট ভাল্ব এবং চোখ কেরলের এর্নাকুলামের অমৃতা হাসপাতালকে দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার বাবা-মা৷ দশ মাসের ওই শিশুকন্যার লিভার দান করা হবে তিরুঅনন্তপুরমের কেআইএমএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬ মাসের একটি শিশুকে৷ তিরুঅনন্তপুরম মেডিক্যাল কলেজ এসএটি হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন একটি শিশু অ্যালিনের দুটি কিডনি পাবে৷ তিরুঅনন্তপুরমেরই অন্য একটি হাসপাতালে শিশুটির হার্টের দুটি ভাল্ব দান করা হবে৷ অমৃতা হাসপাতালকে শিশুটির দুটি চোখ দান করা হবে৷
গত ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে গাড়িতে কোট্টায়াম থেকে থিরুভাল্লা যাচ্ছিল শিশুটি৷ সঙ্গে তার বাবা- মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও ছিলেন৷ তখনই উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রবল বেগে ওই শিশুটি যে গাড়িতে ছিল, সেটিতে ধাক্কা মারে৷ দুর্ঘটনায় গাড়ি অন্যান্য সওয়ারিরা কম বেশি আহত হলেও ওই শিশুটির আঘাত ছিল সবথেকে গুরুতর৷
দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে চঙ্গনাশ্বরী এবং থিরুভাল্লার দুটি হাসপাতালে নিয়য়ে যাওয়া হয়৷ এর পর ৭ ফেব্রুয়ারি শিশুটিকে কোচির অমৃতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে৷ সেখানেই গত ১৩ অগাস্ট শিশুটিকে ব্রেন ডেড বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা৷ এর পরেই মেয়ের অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন তাঁর বাবা-মা৷
দশ মাসের ওই শিশুর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অ্যাম্বুল্যান্সে করেই কোচি থেকে রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমে নিয়ে আসা হয়৷ সাধারণত এই পথ আসতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে৷ কিন্তু অঙ্গদানের এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষ এবং পুলিশ মিলে রাস্তা ফাঁকা করে দেওয়ায় অনেক কম সময়েই গন্তব্যে পৌঁছে যায় অ্যাম্বুল্যান্স৷ তিরুঅন্ততপুরমের একাধিক হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই অঙ্গগুলি অন্যান্য শিশুদের শরীরে প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়৷
