শিশুটিকে উল্টো করে পেটে ভর্তি জল বের করা হয়। এর পরে, শিশুটিকে মুখ দিয়ে শ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তবেই তার হৃদস্পন্দন আবার শুরু হয়েছিল। তবে শিশুটির অবস্থা এখনও পুরোপুরি ভাল নয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে জেলা হাসপাতাল থেকে রায়পুরে রেফার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জন্মদিনে ঠাকুমার দেওয়া উপহার ছিল লটারির টিকিট, তাতেই ৮ কোটি জয় নাতির! অবিশ্বাস্য
advertisement
কেরগাঁওয়ের ধ্রুব পরিবারের সদস্যরা চমকে ওঠেন যখন দিদা দেখেন যে দেড় বছরের নিষ্পাপ হর্ষ কুয়োতে পড়ে কান্নাকাটি করছে। তাকে দেখে ঠাকুমা কাঁদতে শুরু। শিশুটির মা ছুটে এলে তিনিও কিছু বুঝতে না পেরে চিৎকার করলে আরও কয়েকজন ছুটে আসেন। গভীর কুয়ো দেখে সবাই ভয় পেয়ে যান।
আরও পড়ুন: ধর্ষণ করে লাশ পুড়িয়ে প্রমাণ লোপাট! প্লাস্টিকের ব্যাগে উদ্ধার পোড়া দেহ
এদিকে শিশুটির পিসি গায়ত্রী ধ্রুব নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে ২০ ফুট গভীর কূপে ঝাঁপ দেন এবং অন্ধকার থাকা সত্ত্বেও শিশুটিকে খুঁজতে থাকেন। মুখে শ্বাস দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন নিষ্পাপ শিশুটির। সাহসী গায়ত্রী জানান, নীচে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে তার নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে আসে। পেট ও বুক জলে ভরে যায়। শিশুটিকে উল্টো করে পেটে চেপে দিতেই জল বেরিয়ে যায়।
তারপরও শ্বাস-প্রশ্বাস শুরু হয়নি, তারপর মুখ দিয়ে শিশুকে শ্বাস দিয়ে ফুসফুসে কয়েকবার চাপ দিলে আরও জল বের হয়। তারপর কোনোও মতে অনেক চেষ্টার পর শিশুটির শ্বাস শুরু হয়। অন্য লোকেরা উপর থেকে দড়ি ছুঁড়ে দিলে তিনি শিশুটিকে তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে নিজেই উঠে আসেন।
ততক্ষণে লোকজন ১০৮ অ্যাম্বুল্যান্সে ফোন করে। তৎপরতা দেখিয়ে ১০৮ নম্বরের ইএমটি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে গিয়ে শিশুটিকে গড়িয়াবন্দ জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে। শিশুটিকে অক্সিজেন দেওয়ার সময় ফুসফুসে জল ভরে যাওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে চিকিৎসকরা তাকে রায়পুরে রেফার করেন। একইসঙ্গে দুঃখের বিষয় হল, কুয়ায় ঝাঁপ দেওয়ার কারণে সাহসী পিসির পা ভেঙে গিয়েছে, যাকে গড়িয়াবন্দে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
রামকুমার নায়েক
