পরিবারের মতে, রবিবার রাতেও যথারীতি ওই তরুণী তাঁর ঘরে চলে যান। পরের দিন সকালে যখন তাঁর মা তাঁকে ডাকতে যান, তখন বিছানা খালি ছিল। তবে, তিনি যা দেখতে পান তাতে হতবাক হয়ে যান। তাঁর দাবি, বিছানার উপর মেয়ের জামাকাপড় এবং গয়না ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। ঠিক পাশেই ৫ ফুট লম্বা সাপের খোলসের মতো কিছু পড়ে ছিল।
advertisement
খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে, গ্রামজুড়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে মহিলাটি একজন “ইচ্ছাধারী নাগিন” (একটি পৌরাণিক আকৃতি পরিবর্তনকারী সর্প)। স্থানীয় লোককথায় আরও যোগ হয় যে তিনি যে ঘরে ঘুমোতেন, সেই মেঝেতে একটি সাপের গর্ত আবিষ্কার হয়েছিল। পরিবার উল্লেখ করেছে যে অতীতে মাঝে মাঝে সেখানে সাপ দেখা যেত।
“আমরা বিধ্বস্ত এবং আমাদের মেয়েকে নিরাপদে ফিরে পেতে চাই,” পরিবারটি সংবাদমাধ্যমের কাছে দ্রুত পুলিশি-পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে। অজিতমাল সার্কেল অফিসার (সিও) মনোজ গাঙ্গোয়ারের নেতৃত্বে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ” নিখোঁজ তরুণীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র ৮৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা মহিলাকে খুঁজে বের করার জন্য বেশ কয়েকটি দল গঠন করেছি,” বলেন মনোজ।
আরও পড়ুন : আসনে বসেই পাবেন গরমাগরম খাবার, পরিস্রুত জল! ২৫ ট্রেনে থাকছে ই-ফুড পরিষেবা
এই ঘটনায় অতিপ্রাকৃত তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ায় গ্রামবাসীদের কাছে পুলিশের আবেদন, গুজবে কান না দেওয়ার। ‘সাপ’ সংক্রান্ত গুজবের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে ওই পুলিশের দাবি, “মহিলার সাপে পরিণত হওয়ার খবর সম্পূর্ণ গুজব এবং এড়িয়ে যাওয়া উচিত। বিছানায় সাপের খোলসের উপস্থিতি তদন্তকে বিভ্রান্ত করার বা বিভ্রান্তি তৈরি করার ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা হতে পারে।” এই ঘটনায় তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশ কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল নথি স্ক্যান করার জন্য বাড়ি থেকে পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনও আটক করেছে।
সাহিত্যপ্রেমীদের মত, এই ঘটনা কোথায় যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে সত্যজিৎ রায়ের ছোটগল্প ‘খগম’-কে।
