এই রূপান্তর সবচেয়ে দৃশ্যমান রেল বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে ২০০৯-১৪ সময়সীমায়, অসম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য গড় বার্ষিক রেল বাজেটে বরাদ্দ ছিল প্রায় ২,১২২ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ বর্ষে এটি বৃদ্ধি হয়ে ১১,৪৮৬ কোটি টাকা হয়েছে, যা প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি। বর্তমানে, এই অঞ্চলে ৭২,৪৬৮ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের রেল প্রকল্পগুলি বিভিন্ন পর্যায়ে এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন রেললাইন নির্মাণ, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা-সম্পর্কিত পদক্ষেপ।
advertisement
যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য, অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের অধীনে অসম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৬০টি রেলওয়ে স্টেশনকে পুনর্বিকাশ করা হচ্ছে। প্রায় ২,১০১ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে, এই স্টেশনগুলিকে আধুনিক যাত্রী সুযোগ-সুবিধা, উন্নত অ্যাক্সেসযোগ্যতা, আধুনিক ডিজাইন এবং ডিজিটাল সুবিধা দিয়ে উন্নত করা হচ্ছে। এর মধ্যে হয়বরগাঁও স্টেশনের পুনর্বিকাশের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণও উল্লেখযোগ্য গতি অর্জন করেছে। ২০১৪ থেকে অসম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১,৯০০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মিত হয়েছে। এই সম্প্রসারণ শ্রীলঙ্কার গোটা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের চেয়েও বেশি। রেলওয়ে বৈদ্যুতিকরণের ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব অগ্রগতি দেখা গিয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের মতো রাজ্যগুলি ১০০ শতাংশ বৈদ্যুতিকরণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে অসমও সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিকরণের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।
সুরক্ষিত ও সুগম ভ্রমণ নিশ্চিত করার জন্য, ৫০২টি রেল ফ্লাইওভার এবং আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে লেভেল ক্রসিং সম্পর্কিত সমস্যা কমেছে এবং যাত্রী ও যানবাহনের জন্য সুরক্ষিত চলাচল নিশ্চিত করেছে। রেলওয়ে সুরক্ষার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ভারতের স্বদেশী ‘কবচ’ স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা অসম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
১,১৯৭ রুট কিলোমিটার রেলপথে এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং ২৩৫ রুট কিলোমিটারে কাজ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য আধুনিক ট্রেন পরিষেবাও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এই অঞ্চলে এখন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস এবং অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের মতো উন্নত ট্রেন পরিষেবা চালু হয়েছে, যার ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দেশের বাকি অংশের সঙ্গে দ্রুত, সুরক্ষিত এবং আরও আরামদায়ক রেল যোগাযোগ নিশ্চিত হয়েছে।
এই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অসমের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে প্রকল্প এবং ট্রেন পরিষেবা উৎসর্গ এবং উদ্বোধন করবেন। এই পদক্ষেপগুলির লক্ষ্য কেবল ভ্রমণকে সহজ করা নয় বরং এই অঞ্চলের অর্থনীতি, বাণিজ্য, পর্যটন এবং সামাজিক উন্নয়নকে বাড়িয়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রী ফরকাটিং-তিনসুকিয়া ডাবলিং প্রকল্পের (১৯৪ কিমি) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন, যা আপার অসমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । প্রকল্প সমাপ্তির পর, এই লাইনের দ্বৈতকরণের ফলে এই রুটে ট্রেন চলাচলের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রী ও মালবাহী উভয় ট্রেনের চলাচল আরও সুগম হবে।
বাঁশবাড়িতে একটি পিওএইচ ওয়ার্কশপ-এর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হবে, যা রেলওয়ে কোচ এবং ওয়াগনগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য ব্যবহৃত হবে। এছাড়াও, বৈদ্যুতিকৃত ৫৫৮ কিলোমিটার রঙিয়া-মুরকংসেলেক রেললাইন, ৫৭১ কিলোমিটার চাপরমুখ-ডিব্রুগড় রেললাইন এবং ৩১৫ কিলোমিটার বদরপুর-শিলচর এবং বদরপুর-চুরাইবাড়ি রেললাইন জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হবে।
এছাড়াও, তিনটি নতুন ট্রেন পরিষেবাও চালু করা হবে: কামাখ্যা – চরলাপল্লি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, গুয়াহাটি – নিউ জলপাইগুড়ীএক্সপ্রেস এবং নারেঙ্গি – আগরতলা এক্সপ্রেস। এই পরিষেবাগুলি অসম এবং দেশের অন্যান্য অংশের মধ্যে সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে, যার ফলে বাণিজ্য, পর্যটন এবং সামাজিক ব্যবস্থার উন্নতি হবে। আজ, অসম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল এক নতুন রেলওয়ে বিপ্লবের সাক্ষী হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি ট্র্যাক এবং ট্রেনের সম্প্রসারণের বাইরেও বিস্তৃত। এটি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং শক্তিশালী জাতীয় সংহতির প্রতিনিধিত্ব করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে,ভারতীয় রেল একটি শক্তিশালী এবং আধুনিক পরিবহন নেটওয়ার্ক তৈরি করছে যা “বিকশিত উত্তর-পূর্বাঞ্চল – বিকশিত ভারত” এর দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
