বিচারপতি বাগচী প্রশ্ন তোলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বেরোনোর পর কীভাবে সেখানে নাম সংযুক্ত হয়? চূড়ান্ত তালিকার সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে বলে সুপ্রিম কোর্ট। অ্যাডজুড়িকেশন নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণে৷ তাহলে এখন নতুন ভোটারের নাম করে নাম উঠবে কেন ফর্ম ৬ মাধ্যমে?”
advertisement
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের আগে ফর্ম ৬ নিয়ে কার্যত তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে রাজ্য রাজনীতিতে! মঙ্গলবারের পর আজ, বুধবারও সকাল থেকে কলকাতার সিইও দফতরের সামনে রয়েছে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের জমায়েত। এর মধ্যেই এদিন ফর্ম ৬ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ জানায় রাজ্য।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এসআইআর মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, ”চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়েছে। বিচারাধীন থাকা নামের নিষ্পত্তির কাজ চলছে। সেই সময় কমিশনে কীভাবে বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দিস্তা দিস্তা ফর্ম ৬ জমা পড়ে রয়েছে সিইও অফিসে। আমাদের কাছে ভিডিও আছে।” আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রশ্ন তোলেন, “এত নথি যাচাই করা সম্ভব কীভাবে?” যার উত্তরে কমিশন জানায়, “আমরা শুধু এটুকুই বলতে চাই নাম তুলতে ফর্ম জমা করা অধিকার।” প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “একজন ব্যক্তি ৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা করছেন?” এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “এরকম হতে পারে। আপনাদের আপত্তি থাকলে সেটা জানান সেখানে।”
পালটা যুক্তি দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানায় আইনগত অধিকারে বাধা দেওয়া যায় না। ফর্ম ৬ নিয়ে কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইনের অনুচ্ছেদ ২৩ অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আজ কেউ যদি ১৮ বছরে পা দেন, তাঁরও (ভোটার তালিকায় নাম তোলার) অধিকার আছে। কারও আইনগত অধিকার থাকলে, তা কেউ বাধা দিতে পারে। তবে এই বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে রাজ্যকে আবেদনের কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। দীর্ঘ শুনানি শেষে এদিনের মতো এসআইআর মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল ফের এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হবে।
